স্বচ্ছলতার স্বপ্নে ইউরোপে পাড়ি, সাগরে ডুবে গেল তরুণ ফাহিমের জীবন
অভিবাসন
প্রকাশঃ ২৯ মার্চ, ২০২৬ ৬:৫৯ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের কৃষিজীবী আব্দুল গণির ছেলে মাওলানা সাজিদুর রহমান (২৮) ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। পরিবারে অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। মাদ্রাসায় শিক্ষা শেষ করে পাশের কুলঞ্জ গ্রামের একটি মাদ্রাসায় কিছুদিন শিক্ষকতাও করেন। শান্ত স্বভাবের এই তরুণের স্বপ্ন ছিল একদিন বিদেশে গিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন।
কিন্তু সেই স্বপ্নই হয়ে উঠল তার মৃত্যুর কারণ।
গ্রামের আরও কয়েকজন তরুণের মতো মাওলানা সাজিদুরও ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েন। একই গ্রামের দালাল মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করে লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে পাড়ি দেন। পরিবার ভেবেছিল, হয়তো নতুন জীবনের শুরু হবে। কিন্তু সেই যাত্রাই শেষ হয়ে গেল সাগরের বুকে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হন সাজিদুর। যাওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় নৌকায় ওঠার ঠিক আগে। তারপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
সাজিদুরের বাবা আব্দুল গণি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দালাল মুজিবের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি ছিল। বলেছিল বড় স্টিলের নৌকায় করে নিবে। কিন্তু পরে শুনি, প্লাস্টিকের ছোট নৌকায় তুলে দিয়েছে।
তিনি জানান, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সাজিদুরকে ‘গেমঘর’ নামে একটি স্থানে ১৭ দিন বন্দী করে রাখা হয়। সেই সময় তাকে কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অনাহারে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি।
নৌকায় তোলার পরেও কোনো খাবার দেয়নি। আমার ছেলেটা না খেয়েই মারা গেছে, বলতে বলতে ভেঙে পড়েন আব্দুল গণি।
লিবিয়া, সাগরপথে ইউরোপ, সুনামগঞ্জ, দিরাই উপজেলা, গেইমঘর, লিবিয়া গেইম