২৭ মে ২০২৬

অভিবাসন

পিতার নিষেধাজ্ঞা শুনেননি দিরাইয়ের নুরুজ্জামান, সাগরেই হল সলিল সমাধি

প্রতিনিধি, দিরাই, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৯ মার্চ, ২০২৬ ৪:১৫ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২)। পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে পাড়ি জমিয়েছিলেন বিপদসংকুল পথে। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের করুণ পরিণতি ডেকে আনল ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে হারিয়ে গেলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নুরুজ্জামান সর্দারকে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথ থেকে বিরত থাকতে বারবার নিষেধ করেছিলেন তার বাবা আবু সর্দার। কিন্তু উন্নত জীবনের আশায়, ইউরোপে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার স্বপ্নে তিনি সেই নিষেধাজ্ঞা মানেননি। স্থানীয় দালালের মাধ্যমে বিপুল অর্থের বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির এক মর্মান্তিক ঘটনায় সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার অন্তত আটজন তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে তারপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সর্দার ময়নাও রয়েছেন।

আবু সর্দার বলেন, সে লিবিয়া যাওয়ার পর আমি দুইবার নিষেধ দিয়েছি সে যেনো এভাবে না যায় তবে সে আমার কথা শুনেনি। তার ভাইয়ের সাথে কথা বলে সে এই রাস্তায় গিয়েছে এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।  

এদিকে নুরুজ্জামান সর্দারের বড়ভাই হেলাল সর্দার বলেন, আমার ভাইয়ের সাথে আমার শেষ কথা হয়েছিল ২২ তারিখে জানিয়েছিল তারা আজকে নৌকায় উঠবে এতটুকুই আমরা জানতাম। গতকাল আমার ভাইয়ের সাথেই একই নৌকায় আমাদের গ্রামের রুহান নামে আরেক যুবক ছিল সে আমাকে জানিয়েছে আমার ভাই মারা গিয়েছে।  

জানা গেছে, লিবিয়া থেকে ইউরোপগামী একটি নৌকা ছয় দিন ধরে সাগরে ভাসতে থাকে। খাবার ও পানির অভাবে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। একপর্যায়ে ক্লান্তি, ক্ষুধা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে একে একে প্রাণ হারান ২১ জন। পরে দালালের নির্দেশেই লাশগুলো ফেলে দেয়া হয় সাগরেই।


শেয়ার করুনঃ

অভিবাসন থেকে আরো পড়ুন

লিবিয়া, সাগরপথে ইউরোপ, সুনামগঞ্জ, দিরাই উপজেলা, গেইমঘর, লিবিয়া গেইম

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ