ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২
অভিবাসন
প্রকাশঃ ২৮ মার্চ, ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন
লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে দিক হারিয়ে ছয় দিন ধরে ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকা একটি রাবারের নৌকা থেকে ২১ বাংলাদেশিসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে খাদ্য ও পানির অভাবে নৌকাটিতে থাকা অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গতকাল শুক্রবার রাতে গ্রিস উপকূলে ক্রিট দ্বীপের কাছে অভিযান চালিয়ে ইউরোপীয় কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করা হয় বলে শনিবার (২৮ মার্চ) বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এএফপি। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।
বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর শহর তোব্রুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে নৌকাটি। যাত্রাপথে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে তারা। ছয় দিন ধরে কোনো খাবার ও পানীয় ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকেন যাত্রীরা।
এ সময় খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটে পড়ে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়। পরে দালালদের নির্দেশে মরদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জীবিতরা।
এ ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে নৌকায় থাকা ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিস কর্তৃপক্ষ।
কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র জানান, নৌকাটি ক্রিটের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে অবস্থান করছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং খাদ্য ও পানির সংকটের কারণে যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, জীবিতদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নির্দেশেই মরদেহগুলো সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৫৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভূমধ্যসাগর নৌকাডুবি, বাংলাদেশি অভিবাসী, লিবিয়া থেকে গ্রিস, মানবপাচার, সমুদ্রে মৃত্যু