২৬ মে ২০২৬

রাজনীতি / রাজনৈতিক দল

স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন আইন প্রণয়ন করতে হবে: শিশির মনির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ন

ছবিঃ আইনজীবী শিশির মনির। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, এটর্নি জেনারেলের অফিস স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি বিচারকে যদি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় রুপান্তর করত হয় তাহলে শুধু বিচারকদের স্বাধীনতাই যথেষ্ট নয়, এটর্নি জেনারেল যে থাকেন তার যে অফিস থাকে সেটি স্বাধীন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি বলেন, বিগত এক-দুই দিনে বিশেষ করে প্রসিকিউটর, চিফ প্রসিকিউটর আন্তর্জাতিক ট্রাইবনালের চিপ প্রসিকিউটর, বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল এবং এছাড়াও প্রসিকিউটর সার্ভিসগুলোতে অনেক পরিবর্তন সূচনা হচ্ছে। অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল, নিম্ন আদালত গুলোর পিপি, জিপি আসার সাথে সাথে কিংবা যাওয়ার সাথে সাথে আমরা হায়ার-ফায়ার করে নেই।

 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

 

শিশির মনির বলেন, কিন্তু স্বাধীন হবে কি করে দেখন তো। আমাদের এখানকার সিস্টেম টা হলো সরকার আসবে, এসেই নতুন এটর্নি জেনারেল নিবেন, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল নিবেন। সকলকে পরিবর্তন করে দিবেন। পিপি জিপি সয়াইক্বপরিবর্তন করে দিন। এমনকি সিবিল মামলা পরিচালনা করার যে জিপি সেটিকেও পরিবর্থন করে দেন। সরকার আসলেই বড় বড় আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে বড় ধরণএর পরিবর্তন হয়। কারণ কি জানেন? নিয়োগ প্রক্রিয়াটাও এরকম ছিল।, ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়োগ হয়, ইচ্ছা অনুযায়ী  চলে যায়। 

 

তিনি বলেন, কিন্তু যদি একটা স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন হতো, তাহলে এখানে ঢুকাটাও যেমন কটিন হতো, এখান থেকে চলে যাওটাও তেমান কটিন হতো। কি ভাবে একজন মানুষ, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল, এটর্নি জেনারেল হন। সরকার যাকে মনে করে গেজেট প্রকাশ তাকে রাখে। যাকে মনে না হয়, গেজেট প্রকাশ করে তাকে চলে যেতে বলে। 

 

তিনি আরও বলেন, এ সিস্টেম নিয়ে কমিশনে আলাপ হয়েছে। জুডিশিয়াল যে রিফম কমিশন গঠিত হয়েছিলো সে রিপোর্টে আছে যে সুধু বিচারকদের স্বাধীনতা নিয়ে চিন্তা করলেই হবে না। স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিসও গঠন করতে হবে। এটি গঠন না গেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অধরতা থেকে যায়।  

 

উদাহরণ দিয়ে শিশির মনির বলেন, ধরুন, সুপ্রীম কোর্টে আমরা সরকারের বিরুদ্ধে বিচার দিলাম বা সরকারের আদেশের বিরুদ্ধে বিচার দিলাম তাহলে সরকার কে ডিফেন্ট করেন কে? এটর্নি জেনারেল অফিসই তো। এটর্নি জেনারেল অফিসতো আইন অনুযায়ী ডিফেন্ট করবেন। যেটা আইনে আছে সেটা বলবেন যেটা আইন নাই সেটা বলবেন না। 

 

তিনি আরও বলেন, আমরা অতিতে দেখেছি এই বাংলাদেশে, ভারত সাব কন্টিনেণ্টে এমন এটর্নি জেনারেল ছিলেন যারা সরকারের আদেশ মানেননি। সরকারের আদেশকে বেয়াইনী বলে সড়িয়ে দিয়েছেন। এটাই ছিল স্বাধীনতা। কীণ্টূ যেহেতু নিয়্যোগ ও বাতিক প্রক্রতিয়ায় এ ধরনের সেইভ গাড়ড়ড নেই, এ ধরনের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নাই, সে জন্য সিকিউউরড হয় না। 

 

শিশির মনির বলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে আমরা বলতে চাই, যেহেতু সবাই রাজি হয়েছি যে স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠনের ব্যাপারে আমরা আইন করবো। তাহলে স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন আইন হওয়া উচিত। সে আইনে থাকবে, একজন অটানি জেনরেলকে কিভাবে এপয়ইন্মেন্ট দেয়া হবে, কি প্রক্রিয়া যাকে আপাইন্মেন দেয়া হবে, এবং কি প্রক্রিয়া তাকে বিদায় করা হবে। তা সিকিউর করা হবে। একইভাবে একজন এডিশনাল আটর্নি জেনারেল, ডেপুটি আটর্নি জেনারেল, পিপি, জিপি কি প্রক্রিয়ায় তিনি নিয়োগ হবেন এবং চলে যাবেন। এটিকে সিকিউর করতে হবে। হায়ার এবং ফায়ার সিস্টেমে থাকা যাবেনা। তবেই আমরা স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন  সম্পর্কিত সমস্যা গুলোর আসু সমাধান পাবো। 

 

তিনি বলেন, আমি আশা করব, অনেক সংস্কারের কথাতো হয়েছে, এবং বর্তমান সরকারের ব্যক্তিবর্গরা সেই সংস্কারের প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব থাকবে চালু করার জন্য। প্রথম প্রথম কষ্ট হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে আমাদেরকে স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন এর দিকে যাওয়া উচিত।

 

শিশির মনির বলেন, মোটামুটি সব প্রদেশে এই স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস চালু আছে। এভাবে হায়ার এবং ফায়ার করা যায় না। ক্ষমতা আসবে-যাবে কিন্ত এটর্নি জেনারেল অফিস আইন অনুযায়ী আইনকে ব্যাখ্যা করার জন্য যদি সুস্পষ্ট নিয়ম-নীতি দাড় করাতে পারেন, তবে বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ডে ভবিষতে আরও অনেক বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। 

 

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তাই চলুন, আমরা স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস আইন প্রনয়ন করি নতুনভাবে চিন্তা করি। এখানেই সফলতা। 


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

শিশির মনির, স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন, আইন প্রণয়ন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ