২২ এপ্রিল ২০২৬

অপরাধ-বিচার / মামলা

আইন অমান্য করে পুকুর ভরাট, ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধি, বিয়ানীবাজার, সিলেট

প্রকাশঃ ১৫ মে, ২০২৫ ১০:৩৮ অপরাহ্ন


ময়লা ফেলে পরিত্যক্ত জায়গা দেখিয়ে পুকুর ভরাট করার অভিযোগে সিলেটে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে বিয়ানীবাজার পৌরসভার ফতেহপুর মৌজার টিএন্ডটি রোড ও পোস্টঅফিস রোডের সংযোগস্থলে। গত সোমবার (১২ মে) মামলাটি দায়ের করা হয়। 

বৃহস্পতিবার (১৫মে) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিয়ানীবাজার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান। তবে ওই ঘটনায় কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।

মামলার আসামিরা হলেন, পৌর এলাকার নবাং গ্রামের আব্দুর রশীদ, আব্দুস সবুর, আব্দুল হাই, আব্দুল ফাত্তাহ, করিমুন নেছা, ফয়সল আহমদ ও জয়নাল মিয়া; তিলপাড়া ইউনিয়নের মাটিজুরা গ্রামের ফরিদা ইয়াসমিন, পৌর এলাকার সুপাতলা গ্রামের সাহাব উদ্দিন সাবু এবং মাথিউরা সায়নুল ইসলাম। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ৩-৪জনকে আসামি করা হয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে মামলাটি করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা। তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ধারা ৬(ঙ) লঙ্ঘন করায় মামলাটি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, মামলাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযোগ পেয়ে ১৯ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন পরিদর্শক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুর ভরাটের সত্যতা পান। এ অবস্থায় পুকুর ভরাট বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট একজনকে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরও রাতের আঁধারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুকুর ভরাটের কাজ অব্যাহত রাখেন। এ অবস্থায় ৮ মে রাত ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুর ভরাটে বাঁধা দেন। এ সময় পুকুর ভরাটে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক নিয়ে চালকেরা পালিয়ে যান। তবে দুটি মোটরসাইকেল ফেলে যান। উপস্থিত লোকজন মোটরসাইকেলগুলো বিয়ানীবাজার থানায় হস্তান্তর করেন। পুলিশ তৎক্ষনাত মোটরসাইকেল দুটি জব্দ করে। গত শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুর ভরাটের সত্যতা পেয়ে থানায় মামলা করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, পুকুরটি বড় ও গভীর ছিল। জমির মালিকেরা ইচ্ছে করে সেখানে ময়লা ফেলে অংশবিশেষকে পরিত্যক্ত করে ধীরে ধীরে ভরাটের উপযোগী করেন। চার থেকে পাঁচ মাস ধরে রাতের অন্ধকারে পুকুরটি ভরাট করেছেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মোস্তফা মুন্না জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুর ভরাটের খবর পেয়ে প্রথমে বালু ভরাট কাজ বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা জানিয়ে নোটিশ পাঠানো হয় এবং সেই নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকদিন পর পুনরায় পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে জানার পর পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, পুকুর ভরাট, বিয়ানীবাজার, পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ