২৭ মে ২০২৬

অভিবাসন

বৈধ ভিসা ও টিকিট থাকার পরও মিলছে না যুক্তরাজ্যের বোর্ডিং পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:১৩ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন। যুক্তরাজ্যে ব্যবসা করেন। গত ২০ ডিসেম্বর স্ত্রী সন্তানকে যুক্তরাজ্যে রেখে দেশে আসেন। যুক্তরাজ্যে মেয়ের স্কুলের পরীক্ষা আগামী সপ্তাহে। ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে ফেরার জন্য সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান তিনি।

যুক্তরাজ্যের বৈধ ভিসা, নিশ্চিত টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও তাকে বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়নি। কোনো উপায় না পেয়ে বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসতে হয়েছে তাকে।

শুধু সালাহ উদ্দিন নয়। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪০জন যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত যাত্রী বিমানবন্দরের চেক-ইন কাউন্টার থেকে ফেরত এসেছেন। একই অবস্থা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। বোর্ডিং পাসের সময় কম্পিউটারের স্কীনে ‘চেক ইন রেসট্রিকটেড, কন্ট্রাক্ট ইউকে বর্ডার ফোর্স’ লেখা বার্তার কারণে যুক্তরাজ্য যেতে অনুমতি মিলছে না যাত্রীদের।

এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন প্রবাস ফেরতরা। অনেকে অনিশ্চয়তার মধ্যেও পড়েছেন। বিশেষ করে যারা স্ত্রী সন্তান রেখে দেশে এসেছেন তাদেরকে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ইস্যুটি বাংলাদেশের কোনো কারণে না। এটা যুক্তরাজ্যের বর্ডার কর্তৃপক্ষের। তবে বিষযটি সমাধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কাজ করছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের চেক-ইন করার সময় ‘চেক ইন রেসট্রিকটেড, কন্ট্রাক্ট ইউকে বর্ডার ফোর্স’ বার্তা দেখাচ্ছে। এতে করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদেরকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না।

অথচ যাত্রীদের দাবি, তাঁদের ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সম্পূর্ণ বৈধ। এমনকি অনেকের যুক্তরাজ্যের ই-ভিসাও রয়েছে। সকল কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও তাদেরকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। 

জানা গেছে, এই জটিলতার বড় কারণ যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ‘ডিজিটালাইজেশন’ বা ই-ভিসা প্রক্রিয়ায় রূপান্তর। যুক্তরাজ্য সরকার ধাপে ধাপে ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট (যেমন বিআরপি কার্ড) বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ই-ভিসা চালু করছে। অনেক প্রবাসী বিআরপি থেকে ই-ভিসায় মাইগ্রেট করলেও নতুন পাসপোর্টের তথ্য ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে আপডেট করেননি। ফলে এয়ারলাইন্সের সিস্টেম পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে হোম অফিসের ডাটাবেসে যাচাই করতে গেলে ‘নো ভ্যালিড ভিসা’ বা ‘এরর’ দেখাচ্ছে।

এ ছাড়া এয়ারলাইন্সগুলো ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ সিস্টেম ব্যবহার করে। অনেক সময় যাত্রীর স্ট্যাটাস আপডেট থাকলেও সার্ভার জটিলতায় কাউন্টারে তথ্য পৌঁছাতে দেরি হয় অথবা ভুল তথ্য দেখায়।

মৌলভীবাজারের বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘বছরে ২-৩ বার দেশে আসি। কিন্তু কখনও এরকম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়নি। এখন স্ত্রী সন্তান এক দেশে, আমি এক দেশে। এই অনিশ্চয়তা কাটবে কবে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্লাইটে যেতে না পেরে বিমানবন্দর থেকে ফিরে যুক্তরাজ্য ইমিগ্রেশনের সাপোর্ট টিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছে এটা তাদের সমস্যা না। আমার ভিসাসহ সকল কাগজাদি বৈধ। এগুলো দেখিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই। কোনো সমস্যা হলে বিমান কর্তৃপক্ষ ক্যারিয়ার সাপোর্ট হাবে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে সে দেশটির ইমিগ্রেশন।’

আরেক যাত্রী শফিকুর রহমান জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী একই ধরনের ভিসায় যুক্তরাজ্য যাচ্ছিলেন। গতকাল তাঁদের ফ্লাইট ছিল। কাউন্টারে তাঁর স্ত্রীর বোর্ডিং পাস ইস্যু হলেও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বোর্ডিং পাস আটকে দেওয়া হয়। টিকিট ‘নন-রিফান্ডেবল’ হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে একাই যুক্তরাজ্যে পাঠিয়ে তিনি দেশে থেকে যান। এতে তাঁর টিকিটের পুরো টাকা নষ্ট হয়েছে।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, ‘এটা সিলেট বিমানবন্দর বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব কোনো সমস্যা নয়। এ বিষয়টি যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সমাধান করবে।’  ইতোমধ্যে বিমান কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

হাফিজ আহমদ আরও বলেন, ‘এটাকে রেসট্রিকশন বলবো না আমি। এটা হয়তো তাদের বর্ডার ফোর্সের ব্যবসা হতে পারে। অথবা সিস্টেমের আপগ্রেডেশেনও হতে পারে। তবে, আপাতত ব্রিটিশ হোম অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’


শেয়ার করুনঃ

অভিবাসন থেকে আরো পড়ুন

বৈধ ভিসা, টিকিট, মিলছে না, যুক্তরাজ্য, বোর্ডিং পাস

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ