ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২
অভিবাসন
প্রকাশঃ ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
এবার ম্যানচেস্টার-সিলেট ফ্লাইট চালু না রাখলে রেমিট্যান্স শাটডাউনসহ তিন দফা কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে সভা করে এই কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেয় গ্রেটার সিলেট নামক একটি সংগঠন।
তাদের মতে নানা সময় সিলেটের সাথে কর্তৃপক্ষ থেকে বিমাতাসূলভ আচরণ করা হয়। যার প্রমাণ ম্যানচেস্টার-সিলেট ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত।
মূলত বিমান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক একটি রোট ম্যানচেস্টার-সিলেট। কিন্তু হঠাৎ করেই এই রুটে বিমান চলাচল বন্ধ করার তোড়জোড় শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়েছেন পশ্চিম ইংল্যান্ডে অবস্থানরত বাঙালি কমিউনিটির একটি বৃহৎ অংশ।
তাদের অভিযোগ এই রুটে চলাচলকারী বিমান বাতিল করে পাকিস্তানের করাচির সাথে বিমান চলাচল শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। এমন অবস্থা ম্যানচেস্টার-সিলেট রোটে বিমান চলাচল সচল রাখতে আন্দোলন করছে যুক্তরাজ্যস্থ গ্রেটার সিলেট।
এরই অংশ হিসেবে গ্রেটার সিলেট সাউথ ইস্ট রিওয়েনের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে'র প্রেটন কে এম আবু তাহের চৌধুরী বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় গিয়েছেন তিনি সিলেটের সাথে বৈষম্য করেছেন। সুতরাং এসব মেনে নেওয়া যায় না। যদি ম্যানচেস্টার-সিলেট ফ্লাইট বন্ধ করা হয় তাহলে আমরা রেমিট্যান্স শাটডাউনের ডাক দেবো এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাও করা হবে।
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে'র প্রেটন ড. হাসনাত এম হোসেইন এমবিই বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। কিন্তু সেখানেও বৈষম্য চলছে। এখানে বিমান বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নামে না। সুতরাং আমরা বলব, আমরা যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা ঐক্যবদ্ধ। যদি কর্তৃপক্ষ এখনই পদক্ষেপ না নেন তাহলে আমরা এই আন্দোলন আরও কঠোর করব।
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে'র কো- কনভেনর মসুদ আহমদ বলেন, আমাদের পাঠানো র্যামিটেন্সের কারণে দেশ চলে। কিন্তু আমাদের সুবিধা-অসুবিধার মূল্যায়ন হবে না সেটা হবে না। সুতরাং আমরা চাই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরও বেশি করে কাজে লাগানো হোক এবং ম্যানচেস্টার-সিলেট ফ্লাইট চালু রাখা হোক।
অপরদিকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে'র কনভেইনার মোহাম্মদ মকিস মনসুর অভিযোগ করে বলেন, আমরা যেটুকু শুনেছি ম্যানচেস্টার-সিলেট রুটে চলাচলকারী বিমানটি কেটে নিয়ে পাকিস্তানের করাচি রোটে দেওয়া হবে। যদি এটা হয় তাহলে আমরা কোন ভাবেই বড়দাশত করবো না। আমরা রেমিট্যান্স শাটডাউন করব, বিমান বাংলাদেশ বয়কট করব এবং যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাও করব।
২০১৯ সালে শুরু হয় বিমান বাংলাদেশের ম্যানচেস্টার-সিলেট ফ্লাইট। লাভজনক এই রুট আগামী পহেলা মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিমাণ কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচনা হয়েছে খোদ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অফ কমন্সে। বিমান চলাচল সচল রাখতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৮ জন এমপি চিঠিও দিয়েছেন বাংলাদেশ বিমানের প্রধান নির্বাহীকে। দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে গ্রেটার সিলেট।
ম্যানচেস্টার-সিলেট, ফ্লাইট, রেমিট্যান্স শাটডাউন, হুঁশিয়ারি