৩০ এপ্রিল ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা / শিক্ষা

ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথে চ্যাম্পিয়ন নিউরোনারচার

এআই দিয়ে অটিজম শনাক্তকরণে সিলেটে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশঃ ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন


চিকিৎসা ও প্রযুক্তির অভিনব মেলবন্ধনে অটিজম শনাক্তকরণে এআই-ভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করে ‘ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিউরোনারচার। রানার-আপ হয়েছে টিম স্টার, যারা প্রান্তিক পর্যায়ে মিডওয়াইফদের প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। সেকেন্ড রানার-আপ হয়েছে মেডিলিঙ্ক যাদের উদ্ভাবন আইসিইউ বেড ও জরুরি ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে একটি লাইভ লজিস্টিক অ্যাপ।


এই তিনটি দলই আগামী দিনে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাশনাল গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে গবেষণা ও শিক্ষায় কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিএমডিসি এ বিষয়ে সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে ডব্লিউডিওএমএস (WDOMS) স্বীকৃতি অর্জনের প্রক্রিয়া চলমান, যা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য ইউএসএমএলই এর মতো আন্তর্জাতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তবে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, গবেষণা সহায়তা ও ডিজিটাল এথিক্সে ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলেই টেকসই উদ্ভাবন সম্ভব।

প্যানেল আলোচনায় বক্তারা একমত হন যে, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুরক্ষায় চিকিৎসা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণের সমন্বিত আন্তঃখাতভিত্তিক উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশনের প্রতিষ্ঠাতা এস. এম. ও. নাওয়েদ বলেন, এই হ্যাকথন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে তারা প্রকৌশল ও ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি দেশে পরিচালিত সব স্বাস্থ্য গবেষণার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটা রিপোজিটরি গঠনের দাবি জানান, যাতে স্থানীয় উদ্ভাবনগুলো হারিয়ে না গিয়ে জাতীয় সম্পদে পরিণত হয় এবং ভবিষ্যতে হেলথকেয়ার এআই টুল তৈরিতে কাজে লাগে।

ডিজিএইচএস/এমআইএস-এর সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী মুহাম্মদ আসিফ আতিক আয়োজনটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ একটি অসাধারণ সফল উদ্যোগ। মেডিকেল ডোমেইনে এটিই প্রথম আয়োজন, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ও উদ্ভাবনের মান ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রযুক্তি সংযোজন, চিন্তাধারা ও দিকনির্দেশনা—সব মিলিয়ে পুরো আয়োজনটি ছিল অনবদ্য।

অনুষ্ঠানের শেষে ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশন জানায়, সিলেটে শুরু হওয়া এই উদ্ভাবনের যাত্রা শিগগিরই ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে। চলতি বছর দেশের প্রতিটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজে এই হ্যাকথন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া প্রযুক্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মানসিক সুস্থতার লক্ষ্যে বছরজুড়ে ওয়াকথন, ম্যারাথন, আর্ট ও ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো আয়োজন করা হবে। প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এই সম্মিলনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দেখছে এক নতুন ভোরের স্বপ্ন।


শেয়ার করুনঃ

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন

হ্যাকাথন, সিলেট, ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ