১০ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে

আরব নিউজের প্রতিবেদেন

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ

সিলেট ভয়েসডেস্ক

প্রকাশঃ ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ৯:৪৩ অপরাহ্ন

ছবিঃ বাংলাদেশ-পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা। সংগৃহীত

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যুদ্ধবিমান কেনাসহ সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি সফর করেন। সেখানে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরের পরই পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা সামনে আসে।

মধ্যপ্রচ্যের আরব নিউজে করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিমান বাহিনীর জন্য নতুন যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি এখনো প্রাথমিক মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী বলেন, ‘মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কোন দেশের প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পাকিস্তান সফরও এই মূল্যায়নেরই অংশ। এর আগে বিমান বাহিনীর প্রধান চীন ও ইতালি সফর করেছেন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে, এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।’

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সর্বশেষ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। এ ছাড়া এক দশকের বেশি সময় পর চলতি মাসের শেষ দিকে ঢাকা-করাচি সরাসরি রুট চালুর কথাও রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার বাস্তববাদী ও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। ‘পাকিস্তানের দিক থেকে আগ্রহ বেশি দেখা গেলেও বাংলাদেশ খুব সাবধানে এগোচ্ছে। সরকার স্পষ্ট করে বলছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানে কোনো নির্দিষ্ট বলয়ের দিকে ঝুঁকে পড়া নয়। বাংলাদেশ সব পরাশক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চায়,’ বলেন তিনি।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিক যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন দীর্ঘদিনের। ‘প্রায় দুই দশক ধরে নতুন ফাইটার জেট কেনা হয়নি। চীনে তৈরি এফ-৭ যুদ্ধবিমানগুলো আর উৎপাদন হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান একটি সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। তবে এর সঙ্গে জিওপলিটিক্স জড়িত,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকেও সংবেদনশীল হতে পারে। ‘পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব যেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষতি না করে—সে বিষয়ে আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। যে কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে হবে,’ বলেন তিনি।

পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি একটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান। গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনার সময় এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারের দাবি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান দাবি করে, ওই সংঘর্ষে তারা একাধিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে যা পরে ভারতীয় কর্মকর্তারা আংশিকভাবে স্বীকার করেন।


শেয়ার করুনঃ

বিশ্বজুড়ে থেকে আরো পড়ুন

বাংলাদেশ-পাকিস্তান, প্রতিরক্ষা চুক্তি, সতর্ক, সিলেট ভয়েস, আন্তর্জাতিক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ