ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২
অভিবাসন
প্রকাশঃ ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ৫:৩১ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর হাতে আটক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ৪২ বছর বয়সী আলিয়া রহমান নামের ওই নারী নিজেকে প্রতিবন্ধী দাবি করে আইসিই সদস্যদের কাছে বারবার অনুরোধ করছেন।
ঘটনাটি ঘটে মিনিয়াপোলিসে, যেখানে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অভিযানের সময় আলিয়া রহমানকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।
আলিয়া রহমান একজন ডেমোক্র্যাট সমর্থক ও পরিচিত সামাজিক কর্মী। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ বাধাগ্রস্ত করা হয় এবং একাধিক ব্যক্তি কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করেন। সে সময় কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ভিডিওতে দেখা যায়, আলিয়া রহমান বলছেন তিনি চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন এবং তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তা সত্ত্বেও তাঁকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যে জানা গেছে, আলিয়া রহমানের পরিবার একসময় বাংলাদেশে বসবাস করত এবং তিনি সেখানেই বড় হন। পড়াশোনার জন্য পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি নিজেকে কুইয়ার হিসেবে পরিচয় দেন এবং বাংলাদেশের সমকামিতাবিরোধী আইন ও সামাজিক বাস্তবতার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন।
২০০১ সালের ৯/১১–এর ঘটনার পর তিনি সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে আলিয়া রহমান মিনেসোটায় বসবাস করছেন এবং নিউ জার্সিভিত্তিক একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানে রিমোট ভিত্তিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন।
তবে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এটি তাঁর প্রথম আইনি জটিলতা নয়। এর আগে ওহাইও অঙ্গরাজ্যে অনধিকার প্রবেশের দায়ে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের রেকর্ড রয়েছে। ২০০৯ সালে বিমা ছাড়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ এবং ২০১০ সালে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মিনিয়াপোলিসের সাম্প্রতিক এ ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, আইসিই অভিযান, আটক বাংলাদেশি, বংশোদ্ভূত নারী, মুক্তি, প্রশাসন