
‘ভালো শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্বের কারণে শিক্ষা আনন্দদায়ক হচ্ছে না।’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই দিনব্যাপী ৭৫ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন ছাত্র-শিক্ষক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উদ্ভোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘বর্তমান মুনাফাভিত্তিক্ ;কুশির্ক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করে একটি বৈষম্যহীন ও যুগোপযোগী ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো দেশকে উজ্জীবিত করা, সাহিত্যকে উজ্জীবিত করা। কিন্তু আমরা সেটা না করে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছি।’
তিনি বলেন, ‘দেশের সর্বত্র নৈরাজ্য চলছে। এটাকে ঠিক করার জন্য সঠিক মানুষের দরকার। আমরা যদি দেশকে ভালবাসি তাহলে অতীতের কথা মনে রাখলে হবে না। ভবিষ্যতের কথাও ভাবতে হবে। এখনো দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ সাধারণ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না। শিক্ষার জন্য সরকার টাকা খরছ করতে চায় না। অথচ এদেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সরকার চলে। সরকারে যারা আসে। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তারা পক্ষপাতমূলক আচরণ করে। আমাদের রাষ্ট্র এ জাতির দায়িত্ব নিতে চায়না। কারণ আমরা একটি অভিশপ্ত জাতি।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার প্রসারে আমরা কোনদিনই কাজ করিনি। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার সংস্কার হচ্ছে না দীর্ঘদিন থেকে। ‘
বাংলা মাধ্যমকে অবহেলা করে ইংরেজিকে প্রাধান্য দেওয়াকে তিনি ঔপনিবেশিক দাসত্ব বলে মন্তব্য করেন। তিনি শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষা বাংলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইংরেজি বা অন্য ভাষার আধিপত্য হ্রাস, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, যোগ্য শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার রাষ্ট্রীয়করণ ও জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত পুনর্মিলনী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯ টায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা বের করা হয় । শোভাযাত্রাটি স্থানীয় জালালপুর বাজার প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়।
পরে সকাল ১০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্টানের আনুষ্টানিকতা শুরু হয়। বেলা ১১ টায় বিদ্যালয়ের মাঠে বিশাল উদ্ভোধনী আলোচনা অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন ৭৫ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন ছাত্র-শিক্ষক পুনর্মিলনী অনুষ্টানের আহ্বায়ক এবং সাবেক শিক্ষার্থী আখলাকুল আম্বিয়া বাতিন।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আখতার হোসেন রুকন, সাংবাদিক খালেদ আহমদ, এস এম ফাহিম ও মাহফুজুল হাসান ইব্রাহিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্টানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ধীমান ব্রত পাল।
পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ। গীতা পাঠ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাধুর্য্য সরকার।
অনুষ্টানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট মেট্রাপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মোঃ রিয়াজুল কবির, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. কামাল আহমদ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম অনীক চৌধুরী।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুল জব্বার জলিল, হোসেন আহমদ, ময়নুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক ডাক্তার কাওছার আহমদ, অধ্যাপক মতিউর রহমান, অধ্যক্ষ্য জিল্লুর রহমান শুয়েব, জহিরুল হক শিকদার প্রমুখ।
বেলা ২ টায় মধ্যাহ্নভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়। এসময় প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নাটিকাসহ বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্টান আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ৬ টায় বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী যারা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন তাদেরকে নিয়ে প্রবাসী সন্ধ্যা নামে একটি স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন।
পরবর্তীতে রাত ৮ টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্টিত হয়। সাংস্কৃতিক উপ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান শুয়েবের সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে গান পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরীসহ স্থানীয় শিল্পিবৃন্দ।
শেয়ার করুনঃ
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন
সিলেট, ড. সলিমুল্লাহ খান


