দিরাইয়ে মদসহ আটক এক
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ৯:৪৩ অপরাহ্ন
সিলেটের জকিগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে বৈঠক শেষে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদ জামিনে মুক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গতকাল বুধবার বিকেলে ইউএনও’র কার্যালয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে সমন্বয়ক পরিচয়ধারী জাফর আহমদসহ কয়েকজন তরুণ-যুবক হেনস্তা করেন। পরে তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর মানিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা উপজেলা পরিষদে জড়ো হন। তাঁরা জাফর আহমদসহ কয়েকজনকে সামনে পেয়ে ধাওয়া দিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় মবের নেতৃত্ব দেওয়া জাফর আহমদের ওপর মারধরের ঘটনাও ঘটে। সন্ধ্যা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে ইউএনও দফায় দফায় বৈঠক করেন।
বৈঠক চলাকালীন ও এর আগে ধারণ করা একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও, পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সামনেই জাফর আহমদ আবদুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা ও ‘ডেভিল’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকার দাবি করেন। এ সময় এর বিরোধিতা করে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, “আমি সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আবদুস শহীদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাও নন এবং জকিগঞ্জ থানার কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও নন। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাঁকে দলীয় ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টি করে ধরিয়ে দেওয়া ন্যক্কারজনক।’
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বৈঠকের মধ্যেই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও যুবদল ছাত্রদলের কর্মীরা সমন্বয়ক পরিচয়ধারী জাফরকে টানাহেঁচড়া করে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে পুলিশ জাফর আহমদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে নিরাপদে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়।
আবদুস শহীদের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, পুলিশ ১৫১ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে আদালতে পাঠিয়েছিল। এই ধারায় পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে। আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন।
জামিনে মুক্তির পর সন্ধ্যার দিকে আবদুস শহীদ বলেন, জামিন পেয়ে বাড়িতে পৌঁছেছি। ঘটনার বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান এবং জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও জকিগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ঘটনাটিকে ‘মব-সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। লাইভে তারা জানান, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে।’ একই সঙ্গে প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মব সৃষ্টির পেছনে দায়ীদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানান এবং সাধারণ মানুষকে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জাফর আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আবদুস শহীদকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাঁর কোনো দলীয় পদ-পদবীর তথ্যও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৫১ ধারায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।’
জকিগঞ্জ, সিলেট, ইউএনওর সভা, আটক ইউপি চেয়ারম্যান, জামিন মঞ্জুর