পানি পুনর্ব্যবহার ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ৯:৪০ অপরাহ্ন
সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির ও প্রতীক্ষার পর সিলেট থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট চালু হয়েছিল গত বছরের এপ্রিলে। ডাকঢোল পিটিয়ে গত বছরের ২৫ এপ্রিল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথমবারের মতো কার্গো ফ্লাইট উড়াল দিয়েছিল।
উদ্বোধনের এক বছর না পেরোতেই সিলেটবাসীর সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। সর্বশেষ গত বছরের ১ নভেম্বরের পর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আর কোনো কার্গো বিমান উড্ডয়ন করেনি। অর্থাৎ কার্যত সিলেট থেকে বন্ধ হয়ে গেছে কার্গো ফ্লাইট চলাচল।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও বলছে, আপাতত কার্গো ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিদেশের আমদানিকারকরা চাইলে আবার শুরু হবে। সেক্ষেত্রে পুনরায় একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু করতে হবে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। বিদেশে সিলেটে উৎপাদিত সবজি ও কৃষি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় রপ্তানীর জন্য আগ্রহী ছিলেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালু করা হয়। সেদিন গ্যালিস্টেয়ার এভিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় একটি কার্গো বিমান ৬০ টন তৈরি পোশাক নিয়ে স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা করে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সেই ফ্লাইটকে ওয়াটার ক্যানন স্যালুট দিয়ে বিদায় জানায়।
এরপর সাত মাসে সিলেট থেকে মোট ৪১টি কার্গো ফ্লাইট ইউরোপের দেশ স্পেনে গেছে। এসব ফ্লাইটে প্রায় ২ হাজার ৩৫০ টন পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে হঠাৎ করেই সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কার্গো বিমান সিলেটে আসেনি। কার্যত সিলেট থেকে বন্ধ হয়ে গেছে কার্গো ফ্লাইট চলাচল।
সিলেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরীক্ষামূলক যাচাই ছাড়া পণ্য পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় পুরো উদ্যোগই মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাছাড়া কার্গোর পাশাপাশি সবজি ও কৃষিপণ্য পরীক্ষার জন্য একটি ল্যাব স্থাপনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
একই সঙ্গে কার্গো ফ্লাইটগুলো শুধুমাত্র তৈরি পোশাকের উপর নির্ভরশীল ছিল। সবমিলিয়ে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও অবহেলা ছিল বলছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, যদি কার্গো বিমান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক টার্মিনালটি অচল হয়ে পড়বে। প্যাকেজিং সুবিধা ও ল্যাব টেস্টিং ব্যবস্থা না থাকায় কার্গো কার্যক্রম টেকসই হয়নি। এর ফলে কৃষিপণ্য, সবজি এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন খরচ, সময় ও ঝুঁকি।
যুক্তরাজ্যের এক্সপ্রেস কার্গোর স্বত্বাধিকারি বাংলাদেশি বংশদ্ভোত এনামুল করিম বলেন, বিমানবন্দরে যদি প্যাকেজিং সিস্টেম এবং মান যাচাইয়ের ল্যাব স্থাপন না করা হয়, তাহলে সিলেট থেকে কার্গো রপ্তানি কখনোই টেকসই হবে না। এ কারণেই ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
সিলেট ভয়েসকে তিনি বলেন, কার্গোর বেশিরভাগ পণ্যই ছিল তৈরি পোশাক। তাই আমাদের পণ্য রপ্তানির সুযোগ হয়নি। এক পণ্যের উপর নির্ভরশীল হলে কোনো সময়ই কার্গো ফ্লাইট চলাচল টেকসই হবে না।
সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, সিলেট থেকে সরাসরি রপ্তানির ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা খুবই আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং ব্যবস্থা ও পরীক্ষাগার না থাকায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন অনেকে। কার্গোর পাশাপাশি সবজি ও কৃষিপণ্য পরীক্ষার জন্য একটি ল্যাব স্থাপনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরীক্ষামূলক যাচাই ছাড়া পণ্য পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় পুরো উদ্যোগই মুখ থুবড়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, সিলেট থেকে যেসব পণ্য রপ্তানী হয়েছে, তার সবগুলোই তৈরি পোশাক। এটি একটি চাটার্ড বিমানে পণ্য যেত। বিদেশে আমাদের দেশ থেকে গ্রীষ্মকালীন পোষাক বেশি যায়। তবে এখন শীতকাল হওয়ায় পণ্যের চাহিদা কমে গিয়েছে, সেজন্য আপাতত বিমান যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমেদ বলেন, আমাদের সবকিছু ঠিক আছে। তবে যারা কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করতেন তারা স্থগিত রেখেছেন। যার কারণে নভেম্বর থেকে কোনো ফ্লাইট সিলেট থেকে যায়নি। তারা যদি এই স্থগিতাদেশ তুলে নেয়, তাহলে আবার পণ্য যাবে।
বিমানবন্দরে পণ্য প্যাকেজিং হাউজ তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি আমাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। যদি ব্যবসায়ীরা সবাই একত্রিত হয়ে কৃষি মন্ত্রনালয়কে বিষয়টা বলতে পারেন তাহলে এটি সম্ভব, আমরা করতে পারব না।
সিলেট, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কার্গো ফ্লাইট, আমদানি-রপ্তানি