হাওরের ফসল ১০-১২ দিনে কাটা শেষ হবে, জ্বালানি সংকট নেই: সুনামগঞ্জের ডিসি
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
নির্ধারিত সময়সীমার তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরের বেশিরভাগ ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এখনও শুরু হয়নি। যেসব হাওরে কাজ শুরু হয়েছে, সেখানেও গতি নিয়ে হতাশ হাওরপাড়ের কৃষকেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, হাওরের পানি নামতে বিলম্বতা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ায় এবার জেলার তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লা, মধ্যনগরসহ বিভিন্ন উপজেলার কিছু হাওরে সময়মতো কাজ শুরু করা যায়নি। তবে পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, নির্বাচনের দাপ্তরিক কাজে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় প্রথম দিকে বাঁধের কাজে কিছুটা গতি কম ছিল। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোপুরি কাজ শুরু হয়ে নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী জেলার ১২ উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৭০৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩৭ কোটি টাকা। ১৫ ডিসেম্বর ১২ উপজেলায় বাঁধের কাজ উদ্বোধন করা হলেও হাওরের পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব ও পিআইসি গঠন দেরির কারণে সব হাওরে একসঙ্গে কাজ শুরু করা যায়নি।
তিনি জানান, ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোতেও কাজ শুরু হবে। বর্তমানে কাজের সার্বিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশ।
তবে সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ অনুমোদিত প্রকল্পেই এখনও বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। কোথাও কোথাও সংশ্লিষ্ট পিআইসিরা এখনো ওয়ার্ক অর্ডার পাননি।
বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন। সংগঠনটির নেতারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা থাকলেও এখনও বেশিরভাগ উপজেলায় কাজ শুরু হয়নি। যেসব বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে, সেগুলোর গতিও ধীর। তাঁদের অভিযোগ, পিআইসি গঠনে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প এবং অতিরিক্ত বরাদ্দ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে তাঁরা শঙ্কা প্রকাশ করেন।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, এবারের বাঁধের কাজ নিয়ে তাঁরা খুবই শঙ্কিত। কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। এখনই তৎপর না হলে হাওরবাসীর জন্য দুঃসংবাদ রয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরে পানি থাকায় কাজে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ প্রকল্পে কাজ শুরু হয়ে যাবে। মনিটরিং জোরদার রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাঁধের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সুনামগঞ্জ, বাঁধ নির্মাণ, ধীরগতি, শঙ্কা, হাওরপাড়, কৃষক