দিরাইয়ে মদসহ আটক এক
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ১২:২৯ অপরাহ্ন
রাতভর নানা টানাপোড়েন ও উত্তেজনার পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসান। রোববার সকালে হবিগঞ্জের আদালত থেকে তিনি জামিন পান।
আদালত সূত্র জানায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে হবিগঞ্জের বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মান্নান ২০০ টাকা মুচলেকায় মাহদী হাসানের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে সকাল সাতটার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মাহদীর মুক্তির দাবিতে রোববার রাতভর হবিগঞ্জ সদর থানার সামনে বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। একই দাবিতে ঢাকাতেও কর্মসূচি পালিত হয়। রাতভর থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সদর থানার সামনে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে আন্দোলনের মুখে মাহদীকে ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবনে নেওয়া হলেও আদালত না বসায় সে সময় জামিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে রাত কাটে পুলিশ হেফাজতেই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার বলেন, জামিন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাতে সংগঠনের মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম সুজনসহ তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের বাসায় যান। তবে ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত না থাকায় আদালত বসেনি। পরে জেলা জজের প্রতিনিধির মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে আইনি জটিলতার কথা জানানো হয়।
আরিফ তালুকদারের দাবি, কেন্দ্রীয়ভাবে জানানো হয়েছিল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মাহদী হাসানকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। প্রশাসনের সেই আশ্বাসে শাহবাগের ব্লকেডও তুলে নেওয়া হয়। তবে বাস্তবে জামিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় হতাশা তৈরি হয় বলে জানান তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রের কাজে বাধা দেওয়া এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মাহদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক হৃদয় বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে, যার অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য।
শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে ডিবি পুলিশ মাহদী হাসানকে আটক করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন আখতার। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা শুরুতে স্পষ্ট করা হয়নি।
সম্প্রতি শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির কক্ষে মাহদী হাসানের সঙ্গে পুলিশের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে বানিয়াচং থানায় অগ্নিসংযোগ ও এক পুলিশ সদস্যকে জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো বক্তব্য দিতে শোনা যায় তাকে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আটক করে পুলিশ। তাকে মুক্তির দাবিতে শুক্রবার দুপুরে থানায় যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এ সময় মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একটি দল থানার ওসির কক্ষে অবস্থান নিলে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
পরে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম থানায় গিয়ে মধ্যস্থতা করেন। তার হস্তক্ষেপে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
মাহদী হাসান হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়।
সিলেট, হবিগঞ্জ, আটক, জামিন