জাফলংয়ের কূপ থেকে দেশীয় পিস্তলসহ আটক তিনজন
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৯:৩৬ অপরাহ্ন
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মানিলন্ডারিং-১) আসাদুজ্জামান বাদি হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটে- এ মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার আদেশ জারি হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান তার বিবরণী দাখিল করেননি। তাই দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
দুদকের এজাহার অনুসারে, আনোয়ারুজ্জামান ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে প্রায় আট মাস সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-র পরিচালক পদে দায়িত্বে ছিলেন।
দুদকের অনুসন্ধানে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, লন্ডনে তার নামে থাকা ৪ হাজার বর্গফুটের বাড়ি ও ১ হাজার ৮’শ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের তথ্য গোপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচলে রাজউক বরাদ্দকৃত ৫ কাঠা জমির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
২০২২-২০২৫ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী আনোয়ারুজ্জামানের ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮ টাকা। যদিও পারিবারিক ব্যয় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং মেয়র হিসেবে বেতন-ভাতা বাবদ ১০ লাখ ৫৩ হাজার টাকার তথ্য গ্রহণযোগ্য, তবুও তার মোট নীট অগ্রহণযোগ্য সম্পদ ৯৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮ টাকা। দুদক প্রাথমিকভাবে এই সম্পদকে অবৈধভাবে অর্জিত বলে মনে করছে।
দুদক কর্মকর্তারা সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দিতে গিয়ে তার বাসা তালাবদ্ধ দেখতে পান। নিয়ম অনুযায়ী উপস্থিত সাক্ষী রেখে বাসার গেটে মূল ফরম ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ওই ঠিকানায় থাকছেন না এবং তার স্থায়ী আবাস ও ব্যবসা লন্ডনে।
মামলার বিষয়ে দুদক সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফী মো. নাজমুস সা’দাৎ জানান, নির্ধারিত সময়ে সম্পদের তথ্য না দেয়ায় কিংবা সময় বৃদ্ধির আবেদন না করায় কমিশনের অনুমোদনের ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি (নন-সাবমিশন) দায়ের করেছেন। বিধি অনুযায়ী, তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এর বাইরে আর কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি ওই কর্মকর্তা।
মামলা, দুদক, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট সিসিক