সুনামগঞ্জে সাড়ে ৩ লাখ শিশুকে দেয়া হবে হাম-রুবেলার টিকা
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ৬:৪৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দুই লাখেরও বেশি মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল ‘শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু হওয়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন সেবা নেন অন্তত দুই শতাধিক রোগী। কিন্তু চিকিৎসক সংকট ও অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই হাসপাতালটি। এছাড়া ওষুধ সংকট ও এক্স-রে মেশিন না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগীদের। সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে ভোগান্তির সঙ্গে গুণতে হয় বাড়তি টাকা। এমন ভোগান্তি ও হয়রানীর মাত্রা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। হাসপাতালের বহুমুখী সংকট ও অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে শেষ পর্ব
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অ্যাসিসস্ট্যান্ট শিহাব উদ্দিন। হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা না দিয়ে শান্তিগঞ্জ বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে দেখা করার পরামর্শ দেন তিনি। সেখানেই নির্দিষ্ট ফি নিয়ে দেন চিকিৎসাসেবা। রোগীর রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসমূহও করেন সেখানেই। ব্যবস্থাপত্র লিখে চেম্বার সংশ্লিষ্ট ফার্মেসী থেকে ওষুধ বিক্রি করান কৌশলে। শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানে বিষয়টি। এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে পরবর্তীতে এমন কার্যক্রম আর না করার আশ্বাসও দিয়েছেন শিহাব উদ্দিন। তবুও অবস্থা যেই সেই।
একজন শিহাব উদ্দিনই কেবল অনিয়ম করে যাচ্ছেন এমন না। দুই সপ্তাহের ছুটিতে গিয়েছিলেন হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাসরিন আক্তার। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত তিনি।
এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুইবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালেও তাতে সাড়াঁ দেননি তিনি। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা।
এ তো গেল চিকিৎসকদের অনিয়ম-কাঁরচুপির কথা। অনিয়মে পিছিয়ে নেই হাসপাতালের কর্মচারীরাও। নিয়মানুযায়ী নির্ধারিত তিন টাকা ফি দিয়ে নাম রেজিষ্ট্রেশন করে রশিদ সংগ্রহ করতে হয় রোগীদের। তবে খুচরো টাকা না থাকার অজুহাতে এই ফি আদায় করা হয় ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। এটা যেন কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের ‘অলিখিত নিয়ম’।
এছাড়া ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীদের সাথে স্টাফদের দুর্ব্যবহার, রাতে রোগীদের সেবা দিতে গড়িমশি নিত্যদিনের ঘটনা। হাসপাতালের এমন অনিয়ম-অব্যবস্থায় চরম ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার সলফ গ্রামের সালে আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বুক জ্বালাপুড়া করায় হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এখানকার ডাক্তার আমাকে বলেন যে শান্তিগঞ্জের একটি ফার্মেসিতে যেন দুইটার পরে দেখা করি। সেখানে টেস্ট করে এরপর চিকিৎসা দেবেন তিনি। সেখানে যাওয়ার পর ডাক্তারের সাহেবের ফি, টেস্টের ফি মিলিয়ে দুই হাজার টাকা খরচ আসবে বলা হয়। আমি গরিব মানুষ তাই চিকিৎসা না করেই ওইদিন বাড়ি চলে আসি।’
পশ্চিম পাগলার বয়োজ্যেষ্ঠ নুর উদ্দিন বলেন, ‘বয়স বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই শান্তিগঞ্জের হাসপাতালে যেতে হয়। সেখানে কাউন্টারে রশিদ ফি ৩ টাকার পরিবর্তে প্রতিদিনই দশ টাকা রাখে। বাকি টাকা ফেরত চাইলে বলে ভাঙতি নেই। প্রতিদিনই এমনটা করে তারা।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসান বলেন, ‘এসব বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত মেডিক্যাল অ্যাসিট্যান্টকে ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি এ ধরনের কাজ আর কখনোই করবেন না মর্মে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘কাউন্টারে বাড়তি টাকা নেওয়া অগ্রহণযোগ্য। অন্যান্য অভিযোগগুলোর বিষয়েও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন শরীফি বলেন, ‘চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সবাইকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। কেউ অনিয়ম-কারচুপি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স