দিরাই শাল্লাকে নতুন বাংলাদেশের ফাস্ট মডেল হিসেবে গড়তে চাই: শিশির মনির
নির্বাচন
প্রকাশঃ ০৭ নভেম্বর ২০২৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট-৪ আসন নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। এই আসনে দলীয় মনোনয় পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এমনকি দলটি সিলেট বিভাগের দায়িত্বশীলদের কাছেও এ নিয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে দলের কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, সিলেট বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
এ নিয়ে সিলেট-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে কানাঘোষা চলছে। অনেকে বলছেন, আরিফের কথায় অনেক রহস্য থাকে। যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত বদল হতে পারে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারব না সিলেট-৪ আসনে দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে কি না, যদি দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে অবশ্যই এটি দলের প্যাডে আসবে। আমরাও অপেক্ষা করছি এটি দ্রুতই অফিশিয়ালভাবে জানতে পারি।
বিএনপির একজন প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাতে কোন অসুবিধা নেই জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ বলেন, দল ২৩৭ টি আসনে দলীভাবে মনোনয়ন দিয়েছে আর ৬৩টি আসন এখনও দলীয়ভাবে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। সেজন্য উনাকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে কি না সেটি আমার জানা নেই, এটি দল থেকেই জানানো হবে। তিনি সিনিয়র নেতা যতটুকু ধারণা দলের উচ্চ পর্যায়ের অনুমতি নিয়েই তিনি মাঠে কাজ শুরু করেছেন, তাই একজন সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়ে প্রচারণা চালাতে কোন অসুবিধা নেই। দিনশেষে সবাই বিএনপির লোক সবাই ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইবেন।
একইভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সিলেট-৪ আসনে বিএনপি দলীয়ভাবে কোন প্রার্থীর নাম এখনো ঘোষণা করেনি। যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে সেটা আপনারা সবাই জানতে পারবেন। প্রয়োজনে আমিই আপনাদের জানাব।
এদিকে সিলেট-৪ আসনে দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে জানতে সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং তার হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হকের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিলেট-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য প্রার্থীরা। তাদের দাবি আরিফুল হক চৌধুরীর মুখের কথায় বিশ্বাস করাটা কষ্ট যতক্ষণ পর্যন্ত না দলীয়ভাবে কোন সিদ্ধান্ত আমরা জানতে পারছি।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, সিলেট-৪ আসনে বিগত কয়েক বছর ধরে আমি ছাড়াও আরও ৫-৬ জন কাজ করছেন। আপনারা যেভাবে জেনেছেন আমরাও সেভাবে জেনেছি আরিফুল হক নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন, কিন্তু দলের সাংগঠনিক নিয়ম মতে দলের মহাসচিব পর্যায়ে কোন দিক নির্দেশনা বা কোন চিঠি আমরা দেখি নাই আমরা অপেক্ষায় আছি। দল যে সিদ্ধান্ত নিবেন আমরা সেটি মেনে নিব।
বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান বলেন, আরিফুল হক সাহেব যে ঘোষণা দিয়েছেন এটা সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নেই, একজন সিলেট-৪ আসনে নিজে নিজেই ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন তিনি প্রার্থী। এটি কোন চেইন অব কমান্ডের মধ্যে পড়ে না, পার্টিতে একজন সিনিয়র আছেন যিনি বলবেন কারা মনোনয়ন পেয়েছেন বা কার পাননি। আমার নিজেকে চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বলা অবকাশ নেই। এগুলা বিভ্রান্তি ছড়ায় দলের চেইন অব কমান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তিনি এটি কেন নিজে নিজে করেছেন সেটি তাকেই জিজ্ঞেস করেন। দলীয়ভাবে আমাদের কাছে কোন নির্দেশনাও আসেনি সেজন্য আমরা যারা প্রার্থী আছি তারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, গেল বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে সিলেট-৪ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জানিয়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক নিজেই সিলেট ভয়েসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এসময় তিনি বলেন, সিলেট চার আসনে আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৪ আসন, বিএনপি, জাতীয় নির্বাচন