সিলেটের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নতুন আবাসনের আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর
রাজনীতি
প্রকাশঃ ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ৯:০২ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘প্রবাসীদের ভোটদানে পদ্ধতিগত কিছু বাধা রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে গতকাল ডেলিগেশন পাঠিয়ে বাধা দুর করতে সুপারিশমালা পেশ করেছি, তারা আশ্বস্ত করেছেন তারা চেষ্টা করবেন।’
১৪ দিনের বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর একটি কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘প্রবাসে ১৪ দিন ছিলাম, প্রবাসীদের বলেছি যে আপনাদের ভোটের অধিকার ছিল না, তার জন্য আমরাই লড়াই করেছি। অনেক দল তার বিরোধিতা করেছে, বলেছে যে প্রবাসীরা শুধু ফরেন কারেন্সি দিবে, কিন্তু তাদের ভোটের কী দরকার। আমরা বলেছি অবশ্যই তাদেরকে ভোটের অধিকার দিতে হবে, কিছু নিতে হলে ন্যায্যটা দিতে হবে।’
ডা. শফিকুর বলেন, ‘প্রথমেই হয়তো শতভাগ ভোটার রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসবে না। কিন্তু যতজন আসবে সেটাও অনেক। আগামীতে দেশ গড়ার সকল কাজে প্রবাসীরা যে অনুপাতে বিদেশে আছেন, সেই অনুপাতে সকল জায়গায় তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। এটাই ন্যায়বিচার।’
৫ই আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'যারা চলে গিয়েছেন তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বারবার বলতেন কোন কারণে আওয়ামী লীগের পতন হয় তাহলে তাদের ৫ লক্ষ মানুষ নিহত খুন হবে। আমরা যদি আসলেই তাদের মতো চিন্তা করতাম তাহলে দেশ বধ্যভূমিতে পরিণত হতো। কিন্তু আমরা সবাইকে অনুরোধ করলাম কারো প্রতি প্রতিশোধ না নিতে। আওয়ামী লীগ দায়িত্বজ্ঞানহীন হলেও এই জাতি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এই দুইদিনের ভিতরে ৫জনও খুন হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘তবে মাস-দেড়মাসের মধ্যে ২৩ জন খুন হয়েছে। সব রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, অনেকে সুযোগে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাও মিটিয়েছে। তবে আমরা শুধু বলে বসেছিলাম না, এজন্য সারাদেশে মসজিদ-মন্দির-চার্চ-মঠ ২৪ ঘন্টা পাহাড়া দিয়েছেন আমাদের নেতাকর্মিরা। এ দায়িত্বে অন্যান্য দলও একই ডাক দিয়েছেন, সবাই মিলেমিশে কাজ করেছেন।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে লুটেরারা লুটতরাজ করবে না, দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতি করার সাহস পাবে না, ব্যাংক ডাকাতরা ডাকাতি করবে না, ইজ্জ্বত লুন্ঠনকারীরা আর ওইদিকে চোখ তুলে তাকাবে না– সেইরকম একটি সমাজ আমরা বানাতে চাই। শিক্ষার পরিবর্তন আনতে চাই, দুর্নীতির জড় কেটে দিতে চাই এবং সামাজিক সুবিচার কায়েম করতে চাই, বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে চাই।’
সরকারি অপ্রয়োজনীয় বরাদ্দে জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আগ্রহী হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের এমপিরা সরকারি কোন প্লট গ্রহণ করবে না। আমরা ঘোষণা দিয়েছি আমাদের জীবন এখন যেমন আছেন তখনও তেমন থাকবে। এজন্য আমরা বিনা ট্যাক্সের গাড়িও চড়বো না।’
তিনি বলেন, ‘জনগন, তাদের উপর ট্যাক্স বসানোর জন্য আমাদের ভোট দিবে না, বরঞ্চ জনগণের হকের পাহারাদারির জন্য ভোট দিবে। সেই পাহারাদারি করতে পারলেই আমাদের রাজনীতি স্বার্থক, নাহলে আমরা ব্যর্থ। আমরা ব্যর্থ হতে চাই না। তবে আমরা ভুল করলে শক্ত সমালোচনা চাই।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ, সাংবিধানিক তিন স্তম্ভের মেরুদণ্ড সোজা রাখে এই স্তম্ভ। আমরা অনুরোধ করবো, সাদাকে সাদা বলুন, কালোকে কালো বলুন। সেই কালো আমি হলেও আমাকে ছাড় দিবেন না।’
তিনি জানান, দেশের কয়েকটি সক্রিয় ইসলামিক দল এবং দেশপ্রেমিক দলগুলো ইতিমধ্যে জামায়াতকে সহযোগিতা করছে এবং আরো অনেক দল তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করছেন।
আমীর বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়েই সামনে আগাবো। আমাদের বন্ধু সংগঠন তারা বলেছে তারা নির্বাচিত হলে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া সবাইকে নিয়ে দেশ গঠন করবেন। আল্লাহ যদি তার মেহেরবানি ও জনগণের ভালোবাসায় আমাদেরকে নির্বাচিত করেন, আমরা তাদেরও সাথে নিয়ে দেশ গঠন করবো।’
তিনি বলেন, ‘আর যদি আমাদের বিরোধী দলে বসতে হয়, আমরা ভালো কাজে কর্মীর মতো সঙ্গী হবো। যদি পুরোনো কায়দায় লিপ্ত হয়, তাহলে আগেও যেমন জীবন বাজি রেখে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আগামীতেও ছাড় দিবো না।’
সিলেট, জামায়াতে ইসলামী, আমীর, ডা. শফিকুর রহমান, সুধী সমাবেশ, প্রবাসী, ভোটাধিকার