১৭ এপ্রিল ২০২৬

অপরাধ-বিচার / মামলা

‘হাওরের সুলতান–৪’ এর বিরুদ্ধে পর্যটকের ভোক্তা অধিকারে মামলা

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৭ জুলাই, ২০২৫ ৮:০৪ অপরাহ্ন


এক হাউসবোট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মামলা করেছেন ঢাকার এক পর্যটক। অভিযুক্ত হাউসবোটটির নাম ‘হাওরের সুলতান–৪’। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৬ আগস্ট সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা।

ঢাকার পর্যটক মাহাবুর আলম সোহাগ গত ২৬ জুলাই অধিদপ্তরে অভিযোগটি করেন। মামলার বিবরণে বলা হয়, হাউসবোটটির রুম বুকিং করতে ৭ জুলাই তিনি +৮৮০১৭৭৫৮৯৫৩৩২ নম্বরে যোগাযোগ করেন। এই নম্বরটি ব্যবহার করেন মেহেদি নামে একজন ব্যক্তি, যিনি রাজধানীর মতিঝিলে ‘হাওরের সুলতান–৪’-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন।

মাহাবুর আলম জানান, ২২ ও ২৩ জুলাইয়ের (এক রাত দুই দিন) জন্য একটি এসি কেবিন (দুইজনের জন্য ২৩ হাজার টাকা), একটি নন–এসি কেবিন (দুইজনের জন্য ১৭ হাজার টাকা) এবং তিনজনের জন্য একটি নন–এসি কেবিন (৭৫০০ টাকা করে তিনজন, মোট ২২ হাজার ৫০০ টাকা) বুকিং দেন। অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা ব্যাংক হিসাবে পাঠান। মোট বিল ছিল ৬২ হাজার ৫০০ টাকা, তবে ২ হাজার ৫০০ টাকা ছাড় দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ শহরের শাহেববাড়ি ঘাট থেকে বোট ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রার আগের দিন রাত ৯টার দিকে জানানো হয়, বোট ছাড়বে তাহিরপুরের আনোয়ারপুর থেকে, যা সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। এতে ভোগান্তি বাড়ে, যদিও কিছু যাতায়াত ভাড়া বোট কর্তৃপক্ষ দেয়।

মূল অভিযোগ ওঠে বোটে ওঠার পর। মাহাবুর আলম বলেন, তিনজন থাকার জন্য বুকিং দেওয়া রুমটি দুইজনের থাকার উপযোগী ছিল। বিষয়টি একাধিকবার বোটের ম্যানেজার সেলিমকে জানানো হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। পাশের বড় রুম খালি থাকা সত্ত্বেও তা দেওয়া হয়নি। বরং বারবার বাকি টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ম্যানেজার সেলিম তাদের প্রাইভেসি ক্ষুণ্ন করেছেন। বিষয়টি ২৩ জুলাই ‘হাওরের সুলতান–৪’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুহুল আমিনকে জানানো হয়। তিনি বিষয়টি দেখবেন বললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বোটে যেসব খাবারের তালিকা দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে মিল ছিল না।

অভিযোগকারী মাহাবুর বলেন, তিনজনের রুম বলে বুকিং দিয়েছিলাম, কিন্তু বাস্তবে এক বেডের রুম দেওয়া হয়। রাত্রিযাপনের কথা ছিল শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রী) এলাকায়, অথচ রাতে রাখা হয় টাঙ্গুয়ার হাওরে। এতে ঘুরতে গিয়ে ভোগান্তি হয়েছে।

এ বিষয়ে হাওরের সুলতান–৪–এর এমডি রুহুল আমিন বলেন, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ঢাকার এজেন্টকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জ হাউসবোট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরাফাত হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে শুনানির জন্য ৬ আগস্ট উভয় পক্ষকে হাজির হতে বলা হয়েছে।



শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, হাউজবোট, ভোক্তা অধিকার, সুনামগঞ্জ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ