১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / পরিবেশ

ধ্বংসের মুখে ধলাই সেতু, প্রতিবাদে ধরা ও ওয়াটারকিপারের মানববন্ধন

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ২৬ জুলাই, ২০২৫ ৮:১৫ অপরাহ্ন


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ধলাই নদীর বালু লুটতরাজ বন্ধে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুলাই) পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখা এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার-এর উদ্যোগে ধলাই সেতুর পূর্বপ্রান্তে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নীরবতায় সেতুর নিচ থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলন চলছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের সামিল। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি ধলাই সেতু ধ্বংস হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হবে।”

বক্তারা জানান, ২০০৫ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৪৩৪.৩৫ মিটার দীর্ঘ ধলাই সেতু। ২০০৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান এটি উদ্বোধন করেন। এই সেতু কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সড়ক যোগাযোগের মেরুদণ্ড এবং পর্যটন এলাকা উত্মাছড়ায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু গত বছর ৫ আগস্ট বালু উত্তোলন নিষেধাজ্ঞার শিথিলতার পর থেকেই সেতুর নিচে অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু হয়।

সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার-এর আব্দুল করিম কিম বলেন, “বিগত এক বছর ধরে ধলাই নদীতে নজিরবিহীন অন্যায়-অনাচার চলছে। প্রশাসনের নীরবতায় একপ্রকার সেতু ধ্বংসের আয়োজন চলছে। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”

সভাপতির বক্তব্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “বালু লুট বন্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০), বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০, পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন ২০০০ এবং ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৮৬০ প্রয়োগ জরুরি।”

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশকর্মীরা। সঞ্চালনায় ছিলেন স্কুল শিক্ষক নিজাম উদ্দিন মাস্টার। বক্তব্য দেন ফয়জুর রহমান, আইনজীবী অরূপ শ্যাম বাপ্পী, সোহাগ তাজুল আমিন ও নাট্যকর্মী আহমেদ হোসেন চৌধুরী।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং গণমাধ্যম বালু লুটের বিরুদ্ধে সরব থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে এখন গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হয়, যদি দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ না করা হয়, তাহলে এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা কঠোর আন্দোলনে নামবে এবং আইনি লড়াই শুরু করবে।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, কোম্পানীগঞ্জ, ধলাই নদী, ধলাই সেতু, বালু উত্তোলন, মানববন্ধন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ