০২ মে ২০২৬

দৈনন্দিন / আন্দোলন-বিক্ষোভ

মাইলস্টোন ট্রাজেডি

দিনের ঘটনাপ্রবাহ: উপদেষ্টারা অবরুদ্ধ, শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষ, চারদলের সাথে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২২ জুলাই, ২০২৫ ১১:৪৭ অপরাহ্ন


মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের পরদিন আজ সকাল থেকে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিলো রাজধানীতে। ছাত্ররা রাতেই ছয়দফা দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে সরকার সকালেই শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেয়।

সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয় যে শিক্ষার্থীদের ছয়টি দাবির প্রত্যেকটিই যৌক্তিক বলে মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরে মাইলস্টোন ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

এসময় উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, “মাইলস্টোন স্কুলে একটি তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে নিহত ও আহতের তথ্য থাকছে। কেউ নিখোঁজ থাকলে সে তথ্য থাকছে। এখান থেকে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। নিহত ও আহত পরিবারের ক্ষতিপূরণ, পূনর্বাসন এবং ট্রমা ম্যানেজমেন্ট সাপোর্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

এ সময় আগেরদিন ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় সেনাসদস্য কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং উপর্যুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা আশ্বস্ত করা হয়। একইসাথে বিমানবাহিনীকে জনবহুল এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান না চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন আইন উপদেষ্টা।

শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার শিক্ষার্থীদের জানান যে আগামী ২৪ জুলাইয়ের অনুষ্ঠেয় এইচএসসি পরীক্ষাও আপাতত পেছানো হচ্ছে এবং পরবর্তীতে নিয়মিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে।

দুপুরে এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩১ জন হয়েছে বলে জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এ ঘটনায় আহত ১৬৫ জন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

এদিকে দুপুর সোয়া দুইটার দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল ছোঁড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহন হন।

এ সময়  শিক্ষা ও আইন উপদেষ্টাসহ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। নিরাপত্তা বিবেচনায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় ঘটনাস্থলে।

বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ সাহায্যে আগ্রহীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ত্রাণ তহবিলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শেয়ার করা হয়।

তাতে লেখা হয়, "মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যারা অর্থ সাহায্য করতে চান তারা উপরোক্ত ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের উল্লেখিত নম্বরে তা জমা দিতে পারেন।"

তবে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হলে আধাঘন্টার মধ্যেই পোস্টটি মুছে দেয়া হয়। তবে এ প্রসঙ্গে আর কোন বক্তব্য দেয়া হয়নি।

একই সময়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে যে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের কবরস্থানের জন্য মাইলস্টোন স্কুলের কাছে উত্তরা ১২ নম্বরের সিটি করপোরেশনের কবরস্থানে জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। পরবর্তীতে এই কবরস্থান তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।

দুপুরে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিবের পদত্যাগ দাবিতে ঢাকায় সচিবালয়ের মূল গেইটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীরা।

প্রথমে মিছিল নিয়ে তারা শিক্ষা ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর সেখান থেকে এসে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় সচিবালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং সচিবালয়ের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দুপুরে দুর্ঘটনায় নিহত বৈমানিকের জানাজার পর বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাৎকারে সামাজিক মাধ্যমের গুজবে কান না দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ করেন এবং একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান।

তিনি বলেন, “তারা তদন্ত করে বের করবে কি ঘটেছিলো। তার ভিত্তিতে কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিবো।”

বিকেল ৪টার দিকে সচিবালয় এলাকা ঘিরে থাকা শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ফটক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। 

এদিকে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে ৯ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সন্ধ্যায় কঠোর পুলিশী পাহারায় বেরিয়ে আসেন আইন উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।

রাত ৯টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চারটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বলে তার প্রেস উইং জানিয়েছে।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ; জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম মেম্বার অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম-মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান উপস্থিত আছেন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ বৈঠক চলছিলো।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

মাইলস্টোন ট্রাজেডি,

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ