সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘিরে প্রত্যাশা
রাজনীতি
প্রকাশঃ ২ মে, ২০২৬ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট থেকেই রাজনৈতিক প্রচারণা শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিলেট সফরে আসছেন তারেক রহমান তিনি। ফলে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ঘিরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গেল ২১ জানুয়ারি হযরত শাহ জালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে সিলেটে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে একের পর এক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
সেদিন সভার বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান সিলেটের মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে সুনামগঞ্জে বন্যার সময় সিলেট আসতে তার সাড়ে চার ঘণ্টা লেগেছিল, কিন্তু এখন সেই একই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় ১০ ঘণ্টা। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না প্লেনে এটাই হচ্ছে তথাকথিত উন্নয়নের ফিরিস্তি।
সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের বন্যাদুর্ভোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে ভারতের দিক থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ায় সারা সিলেট শহর বন্যায় ডুবে গিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলের খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে জানান, বিএনপি নির্বাচিত হলে সারাদেশে, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে পুনরায় ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হবে।
এছাড়া সিলেটের মানুষের লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যমুখী প্রবাস-জীবনের কথা মাথায় রেখে তারেক রহমান দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বিদেশে যারা যাচ্ছেন তাদের ভাষা শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে, যাতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তারা আরও ভালো কর্মসংস্থান পেতে পারেন।
এসময় ২৪-এর গণআন্দোলনে সিলেটের ১৩ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান তিনি বলেন, এই রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার কোনো ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীকে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।
তাছাড়া বিদেশি প্রভাব ও নির্ভরতার প্রসঙ্গে তারেক রহমান সিলেটের জনসভায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিগত ১৫-১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই তার রাজনৈতিক দর্শনের মূলমন্ত্র হলো দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ।
সিলেট, প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান