২১ জুলাই ২০২৬

অপরাধ-বিচার / বিচার

তাহিরপুরে চুরির ঘটনায় যুবলীগ নেতাকে থানায় দিলেন বাবা

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১৫ জুন, ২০২৫ ৩:৩৯ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে চুরির অভিযোগে ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতাকে থানায় ধরিয়ে দিয়েছেন তারই বাবা। গ্রামবাসীর হাতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গণপিটুনির পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে থানায় সোপর্দ করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতার নাম ইছা মিয়া (৩৫)। তিনি তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের সাধেরখলা গ্রামের সায়েদ আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

রোববার (১৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, “ইছা মিয়ার বাবা সায়েদ আলী নিজে বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

ইছা মিয়ার বড় ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য হযরত আলী বলেন, “কয়েকদিন আগে আমার ছোট ভাই ইছা মিয়াকে গ্রামবাসী চুরির অভিযোগে আটক করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আমরা সামাজিকভাবে চরম লজ্জার মুখে পড়ি। গ্রামবাসী তাকে ছেড়ে দিলে আমরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিই। কিন্তু একপর্যায়ে সে সেখান থেকে পালিয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। পরে খবর পেয়ে আমরা তাকে ধরে থানায় সোপর্দ করি।”

জানা গেছে, গত ৩১ মে (শনিবার) রাতে সাধেরখলা হাজি এমএ জাহের উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন রহিম মিয়ার দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে চোর সন্দেহে ইছা মিয়াকে আটক করে গ্রামবাসী। পরে তাকে দোকানের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করলে সে চুরির কথা স্বীকার করে এবং তার কাছ থেকে চুরি হওয়া কিছু মালামালও উদ্ধার হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

এছাড়া ইছা মিয়া আরও কয়েকটি বাড়ি ও মসজিদে চুরির কথা স্বীকার করেছে বলেও দাবি গ্রামবাসীর। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য রোপন মিয়াসহ কয়েকজন গ্রামপ্রধানের উপস্থিতিতে কাগজে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এই ঘটনার পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

তাহিরপুর চুরি, ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার, ইছা মিয়া চুরি, তাহিরপুর যুবলীগ বিতর্ক,

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ