রাংপানি নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: ১০টি বারকি নৌকা জব্দ করে ধ্বংস
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৩৭ অপরাহ্ন
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেন এবং ১০ জনকে খালাস দেন।
গত ২০ আগস্ট এই মামলায় ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। পরে রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন, মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল ও কামরুন নাহার মনি।
মামলায় ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
খালাস পাওয়া আসামি ইফতেখার উদ্দিন রানার আইনজীবী আদনান ইয়াজদানী বলেন, হাইকোর্টের রায়ে তার মক্কেল খালাস পেয়েছেন। তার দাবি, মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া ৮৭ জনের কেউই ইফতেখারকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত করার বিষয়ে বক্তব্য দেননি। তার স্বীকারোক্তিও নির্যাতনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল বলে আইনজীবীর দাবি।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। ওই মামলায় সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ ছিল, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন নুসরাত। সেদিন তাকে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফেনী ও ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।
নুসরাতের মৃত্যুর পর তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় হত্যা মামলা করেন।
নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ওই বছরের ২৪ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
সেই রায়ে মামলার ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
রায়ের পর মামলার নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। আসামিরাও পৃথকভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। সেই বেঞ্চেই নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হয়।
আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পর্যায়ের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো।
ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার রায়, সোনাগাজীতে নুসরাত হত্যা, নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়, ফেনীতে নুসরাত হত্যা মামলার সর্বশেষ খবর, সোনাগাজীর নুসরাত হত্যা মামলায় সাজা