১৬ আগস্ট ২০২৬

খেলাধুলা-বিনোদন / খেলাধুলা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন


ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ইতিহাসটা লেখা হয়ে গিয়েছিল আগের তিন দিনেই। চতুর্থ দিন ছিল শুধু শেষ অধ্যায়টুকু টেনে নেওয়ার অপেক্ষা। সেই অপেক্ষাও খুব বেশি দীর্ঘ হলো না। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার লেজের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত ফিরে গেলেন, এরপর ৫৭ রানের ছোট লক্ষ্য পেরিয়ে বাংলাদেশ নিশ্চিত করল অবিশ্বাস্য এক জয়।


অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ ২৩ বছরের। সেই অপেক্ষার অবসান হলো ৯ উইকেটের জয়ে। তাও আবার হাতে এক দিনের বেশি সময় রেখে।


২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার টেস্টে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার তাদের নিজেদের মাটিতে হারিয়ে সেই জয়কে আরও বড় ইতিহাসে পরিণত করল বাংলাদেশ দল।


অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস থামল ২৮৪ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৪২৬ রানের চেয়ে এখনো ১৪২ রান পিছিয়ে তারা। ফলে ইনিংস হার এড়ালেও বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।


এই সামান্য লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। জশ হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ওপেনার। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। সাদমান ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন, মুমিনুল অপরাজিত ৩০ রানে।


ওয়েবস্টারের বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল। সঙ্গে সঙ্গে ডারউইনের গ্যালারি মুখর হয়ে ওঠে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ ধ্বনিতে।


চতুর্থ দিন সকালে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ছিল ইনিংস হার এড়ানো। আগের দিন ৬ উইকেটে ২০২ রান নিয়ে শেষ করা দলটি বাংলাদেশের ৪২৬ রানের চেয়ে ৬৭ রান পিছিয়ে থেকে দিনের খেলা শুরু করে।


কিন্তু দিনের প্রথম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামান মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩১ ওভার ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া হারায় তিনটি উইকেট। তিনটিই নেন মিরাজ।


অস্ট্রেলিয়া অবশ্য মিরাজের ঘূর্ণির মধ্যেও ইনিংস হার এড়ানোর মতো রান তুলে নেয়। লাঞ্চে যাওয়ার সময় তাদের স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ২৪৩। লিড দাঁড়ায় ১৫ রানে।


এরপর লাঞ্চের পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ১১.১ ওভারের মধ্যেই বাকি তিন উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় তারা।



মিরাজ শেষ পর্যন্ত ৬৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি।


মিরাজের বোলিংয়ের মূল অস্ত্র ছিল ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণ। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, অফ স্টাম্পের বাইরের ফুটমার্কে বল ফেলার চেষ্টা করেছেন এবং প্রতিটি বলে উইকেট নেওয়ার চিন্তা না করে শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং করাই তার লক্ষ্য ছিল।


সেঞ্চুরি করা ক্যামেরন গ্রিনকে অবশ্য ফেরান হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া এই পেসার দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ৯ ব্যাটসম্যানকে আউট করেন।


অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়েন ক্যামেরন গ্রিন। কঠিন পরিস্থিতিতে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার সেঞ্চুরিই অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচায়।


কিন্তু গ্রিনের প্রতিরোধের পাশে দাঁড়াতে পারেননি অন্য ব্যাটসম্যানরা। মিরাজের ঘূর্ণি ও হাসান মাহমুদের পেসে একে একে ফিরেছেন তারা।


দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ৬ উইকেট হাতে থাকলেও লাঞ্চের পর বাংলাদেশের সামনে ৫৭ রানের বেশি লক্ষ্য রাখতে পারেনি তারা।


অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের শেষ টেস্ট হয়েছিল ২৩ বছর আগে। এত দীর্ঘ বিরতির পর দেশটির মাটিতে ফিরেই এমন জয় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন।


মাঠে অস্ট্রেলিয়ার দর্শকও ছিল খুব কম। আগের তিন দিনের তুলনায় গ্যালারি অনেকটাই ফাঁকা। এমনকি স্টেডিয়ামের ভিআইপি হিসেবে পরিচিত ‘প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স লাউঞ্জ’ও ছিল প্রায় পুরোপুরি খালি।


চতুর্থ দিন খেলা গড়াবে এমনটা অনেকেই মনে করেননি। ফলে ওই দিনের জন্য লাউঞ্জের টিকিটও বিক্রি হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকেরা যেন আগেই ধরে নিয়েছিলেন, ম্যাচের ফল তখনই লেখা হয়ে গেছে।


শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি চতুর্থ দিনে গড়ালেও ফল বদলায়নি। বদলেছে শুধু ইতিহাসের পাতায় একটি নতুন অধ্যায় যোগ হওয়ার অপেক্ষার সময়।


বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উল্লাস আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ ধ্বনিতে কিছুক্ষণের জন্য ডারউইনের মারারা স্টেডিয়াম হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশেরই এক টুকরো মাঠ।


অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়, ৯ উইকেটের এই জয় তাই শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য একটি স্মরণীয় মাইলফলক।


শেয়ার করুনঃ

খেলাধুলা-বিনোদন থেকে আরো পড়ুন

বাংলাদেশ ক্রিকেট, অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশ, ডারউইন টেস্ট, বাংলাদেশ টেস্ট জয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, অস্ট্রেলিয়া টেস্ট, বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাস

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ