সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হলেন বিএনপি নেতা মিফতাহ্ সিদ্দিকী
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১২ অপরাহ্ন
সিলেট মহানগরের রায়নগর আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত দুজন হলেন এম এ সাত্তার (৮২) ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২)। তাদের সঙ্গে নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) বাড়ি সিলেটের জল্লারপাড় এলাকায়।
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তিনজনেরই গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দরজা বন্ধ দেখতে পান স্থানীয় এক ব্যক্তি। দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে তিনি পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, বাসাটির পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত ওয়ারড্রোব ও আলমারিগুলো খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার বা অন্য কোনো মূল্যবান জিনিস সরানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, ‘ঘটনাটি ডাকাতি, নাকি এর পেছনে পারিবারিক কোনো শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে, সেটিও আমরা তদন্ত করে দেখছি। এখানে একটি দলিলও পাওয়া গেছে। সেটিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডাকাতির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার আরও জানান, পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এ বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধও করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘তাদের কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে কি না, সেটিও আমরা দেখছি। তবে আপাতত ঘটনাস্থলের ক্রাইম সিনে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।’
ঘটনার খবর পাওয়ার বিষয়ে এসএমপি কমিশনার বলেন, বুধবার সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার একজন বাসিন্দা তাকে ফোন করে মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দরজা বন্ধ থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে বলেও তাকে জানানো হয়।
সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা আমাদের টিমকে সেখানে পাঠাই।’
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলকে ক্রাইম সিন হিসেবে বিবেচনা করে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, উপকমিশনারসহ (উত্তর) পুলিশের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘এখানে যেহেতু ক্রাইম সিন, তাই গণমাধ্যম বা সাধারণ মানুষের চলাচল ঠিক হবে না।’ তদন্তের আগে ঘটনার কারণ বা বাসার ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য না করে তিনি বলেন, বিষয়গুলো পুলিশ তদন্ত করে জানাবে।
সিলেট, রায়নগর, মিতালী ১১১, রায়নগর হত্যাকাণ্ড, স্বামী-স্ত্রী নিহত, গৃহকর্মী নিহত, তিনজনের মরদেহ, গলাকাটা মরদেহ, ট্রিপল মার্ডার, সিলেট মহানগর পুলিশ