তাহিরপুর খেয়াঘাটে টোল আদায়ে ‘বাঁধা’, প্রশাসনের কাছে আইনি সহযোগিতা চাইলেন ইজারাদার
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৯ জুলাই, ২০২৬ ৩:৩৯ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলাধীন জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ারচরসহ চারটি খেয়াঘাটে টোল খাস আদায়ে বাধার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক দিন ধরে ছাত্রদল নেতা নাঈম আহমেদ শিশির ও তার সহযোগিরা টোল আদায়ে সমস্যা সৃষ্টি করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন টোল আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. ওয়াহিদ মিয়া। এ পরিস্থিতিতে খেয়াঘাট পরিচালনায় আইনগত সহযোগিতা চেয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে জেলা পরিষদ।
তাহিরপুর উপজেলাধীন জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিন্নাকুলি, মিয়ারচর, লাউড়েরগড় ও বড়গোপটিলাগাঁও এই চারটি খেয়াঘাট নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন নং-২৭৪০/২০২৪ মামলায় স্থিতাবস্থা বহাল রয়েছে। আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট জমির দখল ও অবস্থান তিন মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখতে বলা হয়। এই স্থিতাবস্থার কারণে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খেয়াঘাটগুলো ইজারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়, জেলা পরিষদের দখল সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনসাধারণের খেয়া পারাপারের সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী খেয়াঘাটগুলো খাস আদায়ের ভিত্তিতে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা পরিষদ। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে এই চার ঘাট পরিচালনার দায়িত্বে নেন মো. দেওয়ান আলীর ছেলে মো. ওয়াহিদ মিয়া। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য তিনি ৪২ লাখ টাকা দিয়ে পুনরায় টোল খাস আদায়ের জন্য আবেদন করেন, যা গত ২৪ জুন জেলা পরিষদের মাসিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
এর ভিত্তিতে গত ২ জুলাই জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অসীম চন্দ্র বণিক স্বাক্ষরিত পত্রে ২ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের জন্য ওয়াহিদ মিয়াকে খেয়াঘাটগুলো পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই খেয়াঘাট পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন ওয়াহিদ মিয়া। গত ২৬ জুলাই জেলা পরিষদ কার্যালয়ে দেওয়া আবেদনে তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে কতিপয় ব্যক্তি টোল খাস আদায়ে সমস্যা সৃষ্টি করে আসছেন, যার ফলে তিনি যথাযথভাবে খেয়াঘাটগুলো পরিচালনা করতে পারছেন না।
ঘাটের ইজারাদারা ওয়াহিদ মিয়া বলেন, জেলা পরিষদ থেকে আমাকে ঘাট দিয়েছে। আমি সুন্দরভাবে ঘাট পরিচালনা করে চলতেছি। গেল ২৩ জুলাই হঠাৎ করে শিশির নামে এক ছাত্রদল নেতা এসে ঘাটে অন্য একটি নৌকা বসিয়ে দেয়। তখন তাকে ঘাটে অন্য নৌকা বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায় বজন চৌধুরী থেকে সে ঘাট নিয়েছে অথচ বজন চৌধুরী এসবের ব্যাপারে কিছুই জানে না। তারপর বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ শিশিরে কাগজ দেখানোর কথা বললে সে দুইবার সময় নিয়ে বসেও কাগজ দেখাতে পারেনি। এখন গতকাল থেকে সে আবার সমস্যা শুরু করেছে আমাকে হুমকি দিচ্ছে আমার মানুষদের হুমকি দিচ্ছে। আমি জেলা পরিষদ ও পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য রাকাব উদ্দিন বলেন, কিছুদিন ধরেই আমাদের সংগঠনেরই এক ছাত্রদল নেতা ঘাটের ইজারা নিয়ে বিভিন্ন সময় ধাঙ্গা হামলা করে আসছে। সে প্রায় সময় এলাকায় এসেছে সাধারণ মানুষের নৌকা দিয়ে আসা যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয় না হলে তার নামে আরেকটি নৌকা ঘাটে লাগিয়ে দেয়। তাকে বাঁধা দিতে গেলে ইজারাদারকে হুমকি দেয়। আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে জেলা সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের জানিয়েছি। সে আমাদের দলের হোক তবুও আমরা কোন অপরাধকে ছাড় দিতে রাজি নয়।
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদল নেতা নাঈম আহমেদ শিশিরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সমর কুমার পাল স্বাক্ষরিত পত্রে তাহিরপুর উপজেলাধীন বিন্নাকুলি, লাউড়েরগড়, বড়গোপটিলাগাঁও ও মিয়ারচর খেয়াঘাট পরিচালনাকারীকে আইনগত সহযোগিতা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সমর কুমার পাল বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া স্ট্যাটাস কো আদেশ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রচলিত নির্দেশিকার আলোকে জেলা পরিষদ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় নতুন ইজারা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সরকারি রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখার স্বার্থে পূর্ববর্তী বৈধ ইজারাদারকে নির্ধারিত সময়ের জন্য টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খেয়াঘাটে টোল আদায়ে যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ, খেয়াঘাট, মিয়ারচর খেয়াঘাট, টোল আদায়, খাস আদায়, জেলা পরিষদ, ইজারাদার, ওয়াহিদ মিয়া, নাঈম আহমেদ শিশির, ছাত্রদল