২৯ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন / গ্রামবাংলা

কার্যাদেশ বাতিল, অনিশ্চয়তায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জগন্নাথপুরের পাঁচ সেতুর নির্মাণ কাজ

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১:৪৪ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি সেতুর পুনর্নির্মাণকাজ অনিশ্চয়তার মুখ্র পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে সেতুগুলোর নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আর দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় মানুষের মধ্যে।


এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জগন্নাথপুর উপজেলায় পাঁচটি সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলো হলো কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর সেতু, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও সেতু, পাটলি ইউনিয়নের লাউতলা ও রসুলগঞ্জ সেতু এবং মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামের সেতু।


প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুগুলোর নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. জামিল ইকবাল। গত ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্ত থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরে চলতি জুলাই মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করে এলজিইডি।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


এদিকে সেতুগুলোর কাজ আটকে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সমাজকর্মী ফাহিম আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। টেন্ডার হওয়ার পর সবাই ভেবেছিলেন দ্রুত কাজ শুরু হবে। কিন্তু এখন কার্যাদেশই বাতিল হয়ে গেছে। এতে মানুষ আরও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।


রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও গ্রামের ইউপি সদস্য নুরুল হক বলেন, সেতু না থাকায় প্রতিদিন সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কাজ কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।


পাটলি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, সেতুগুলো নির্মিত না হওয়ায় ইউনিয়নের একটি বড় অংশের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত আশ্বাস ছাড়া কোনো অগ্রগতি নেই।


এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কাজ শুরু করানো যায়নি। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, যে প্রকল্পের আওতায় সেতুগুলো অনুমোদিত হয়েছিল, সেটির মেয়াদ আগামী মার্চে শেষ হবে। অবশিষ্ট সময়ে এই প্রকল্পের আওতায় কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। তাই নতুন কোনো প্রকল্পে সেতুগুলো অন্তর্ভুক্ত করে নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর সেতু, পাঁচ সেতুর নির্মাণ, এলজিইডি, LGED, কার্যাদেশ বাতিল, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, জগদীশপুর সেতু

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ