মৌলভীবাজারে বন্যায় প্রায় চার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, বিপৎসীমার কাছাকাছি জুড়ী নদী
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১৬ জুলাই, ২০২৬ ৬:৩৫ অপরাহ্ন
বাবার মৃত্যুর পর মাত্র দুদিনের মাথায়, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ‘হবিষ্যান্ন’ পালনের মধ্যেই একটি অজগর সাপ বিপদে পড়ার খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে সেটি উদ্ধার করলেন প্রয়াত বন্যপ্রাণী প্রেমী সিতেশ রঞ্জন দেবের বড় ছেলে স্বপন দেব সজল। বৃহস্পতিবার বিশ্ব সাপ দিবসের দিনই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ঘটে এই ঘটনা, যা বাবার রেখে যাওয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ব্রত ছেলের হাতে অব্যাহত থাকার এক আবেগঘন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর পুল উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার বাসিন্দা যোবায়ের আহমেদের বাড়িতে একটি বড় অজগর সাপ দেখা যায়। পরিবারটির সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরেই তাদের হাঁস ও মুরগির বাচ্চা রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাচ্ছিল। সেদিন সকালে হঠাৎ তারা দেখতে পান, একটি বড় অজগর বাড়ির দেয়াল বেয়ে পাশের গাছের দিকে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে যোবায়ের আহমেদ বলেন, অনেকেই সাপটিকে মেরে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা শীতেশ দেবের বাসায় ফোন করি। কিছুক্ষণ পরই তার বড় ছেলে এসে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। এতে আমরা খুবই স্বস্তি পেয়েছি।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভার রামকৃষ্ণ মিশন রোডের বাসিন্দা সিতেশ রঞ্জন দেব মঙ্গলবার সকালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং দেশের সুপরিচিত একজন বন্যপ্রাণী প্রেমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শাস্ত্রীয় বিধান মেনে ‘হবিষ্যান্ন’ পালন করছিলেন তার বড় ছেলে স্বপন দেব সজল, যে সময় সাধারণত ঘরের বাইরে বের হওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু অজগর বিপদে পড়ার খবর পেয়ে তিনি হবিষ্যান্নের পোশাকেই ছুটে যান ঘটনাস্থলে।
এ প্রসঙ্গে স্বপন দেব সজল বলেন, বাবা সবসময় বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষার কাজকে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর আমরা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হবিষ্যান্ন পালন করছি। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী এ সময় ঘরের বাইরে বের হওয়ার কথা নয়। কিন্তু একটি অজগর বিপদে আছে এই খবর শুনে মনে হয়েছে, এটি বাবারই কাজ। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই হবিষ্যান্নের পোশাকেই বেরিয়ে এসেছি। আমি ও আমার ভাই যতদিন বেঁচে থাকব, বাবার শুরু করা এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।
উদ্ধার অভিযানে স্বপন দেব সজলের সঙ্গে ছিলেন পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড়। পরবর্তীতে অজগরটিকে নিরাপদে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনাটি প্রসঙ্গে শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বিশ্ব সাপ দিবসে এই উদ্ধার অভিযান যেন শুধু একটি অজগর সাপকে রক্ষা করার ঘটনাই নয়, বরং প্রয়াত সিতেশ রঞ্জন দেবের বন্যপ্রাণীর প্রতি আজীবনের ভালোবাসা ও মানবিক আদর্শের উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের হাতে অটুট থাকার এক আবেগঘন বার্তাও হয়ে উঠেছে।
মৌলভীবাজার, সিতেশ রঞ্জন, বন্যপ্রাণী, সাপ দিবস, শ্রীমঙ্গল