১৮ জুলাই ২০২৬

রাজনীতি / রাজনৈতিক দল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

মনোনয়ন বিতর্কের জেরে দল থেকে ছিটকে পড়া ‘তোফায়েল আহমেদ’ এখন শুধুই সমর্থক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৭ জুলাই, ২০২৬ ৪:৫২ অপরাহ্ন


দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাজনীতির মূলধারা থেকে অনেকটাই সরে গেছেন সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর তোফায়েল আহমেদ খান। জেলা জামায়াতের কোনো দায়িত্বশীল পদে এখন আর নেই তিনি। দলে থাকলেও এখন থেকে সাধারণ সমর্থক হিসেবেই পরিচয় দিতে হবে তাঁকে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যে নেতা ছিলেন সরব কণ্ঠস্বর, সেই তাঁরই কাটল নিরবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’। গত জাতীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মাশুল দিতে গিয়েই আজ এই পরিণতির মুখোমুখি তিনি।

দীর্ঘদিন জেলা ও কেন্দ্রীয় সুরা সদস্যের দায়িত্বে থাকা তোফায়েল আহমদ খান বছরের পর বছর জেলা আমীরের চেয়ারও সামলেছেন। ছাত্রশিবির থেকে উঠে আসা এই নেতা অতীতে জেলা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ শহরতলির আলহেরা জামেয়া ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল পদে কর্মরত। তবে বৃহস্পতিবার বিকালে শহরের শহীদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

গত জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও মধ্যনগর) আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ খান। ভোটে তিনি পান ৯১ হাজার ১৭৬ ভোট, যেখানে বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

নির্বাচনের আগে প্রায় এক বছর ধরে চালানো প্রচারণায় গোটা নির্বাচনী এলাকায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন সুপরিচিত মুখ। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমার ঠিক আগমুহূর্তে দল থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় এই আসনে তিনি দলীয় প্রার্থী নন। পরিবর্তে ১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদারকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এলাকায় ‘অখ্যাত’ হিসেবে পরিচিত এই প্রার্থীকে মেনে নিতে পারেননি জামায়াতের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তে তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েন, এবং শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমার নির্ধারিত সময়েই দলীয় কর্মী-সমর্থকরা নিজ উদ্যোগে তোফায়েল আহমেদ খানের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিনে নাটকীয় ঘটনাও ঘটে। শহরের কাজীর পয়েন্টের দলীয় কার্যালয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মীরা তোফায়েল আহমেদ খানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন, যাতে তিনি প্রত্যাহারপত্র জমা দিতে না পারেন। সে সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহও। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার তখন মন্তব্য করেছিলেন, দরজা আটকে তোফায়েল খানকে আটকে রাখাও আরেক নাটক। তাঁর দাবি ছিল, তোফায়েল আহমেদ খান কেন্দ্রীয় ১১ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দলীয় সিদ্ধান্তে তোফায়েল আহমেদ খান ও আব্দুল্লাহ দুজনকেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হলেও তোফায়েল আহমেদ খানের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।

জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মো. সামছ উদ্দিন বৃহস্পতিবার বিকালে বলেন, তোফায়েল আহমেদ খান জেলা ও কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ছিলেন, জেলা আমীরও ছিলেন। এখন এসব পদে তিনি নেই। জেলা আমীরের পদে কেউ দায়িত্বে নেই। আমীরের দায়িত্ব কেন্দ্রের নিকট রয়েছে। নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি আমরা যারা আছি। সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের আরেকজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, তোফায়েল আহমেদ খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দল আরও বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়ত। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কীভাবে নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ব্যবহার করলেন এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে তোফায়েল আহমেদ খানের দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, জামায়াতে ইসলামী, আমীর, তোফায়েল আহমেদ খান

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ