ক্রেতা টানতে ব্যর্থ শ্রীমঙ্গল, সিলেটের চায়ের ভাগ্য এখনো চট্টগ্রামের হাতে
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ২ জুলাই, ২০২৬ ৩:১৬ অপরাহ্ন
সিলেটের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেটের গোয়াইনঘাট পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাঁচটি বড় সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব আয়োজিত ফল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটের গোয়াইনঘাট পর্যন্ত রেলযোগাযোগ চালু করা হবে। এ নিয়ে রেলওয়ে সচিব ও ডিজির সাথে কথা হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কোম্পানীগঞ্জ, সালুটিকর, গোয়াইনঘাট ও হাদারপার এলাকায় যাতায়াতের জন্য পাঁচটি বড় ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামী মাসের মধ্যেই এগুলোর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাবে বলে আশা করছি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ কাজে সার্ভেয়ার সংকট ছিল। আমি ভূমিমন্ত্রীর সাথে কথা বলে ৬ জন অতিরিক্ত সার্ভেয়ার নিয়োগ দিয়েছি, যাতে জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত শেষ হয় এবং কাজে কোনো ধীরগতি না থাকে। পাশাপাশি জৈন্তা কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কাজও শেষের দিকে বলে জানান তিনি।
দীর্ঘদিন আটকে থাকা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কাজ শিগগিরই চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সিলেটে একটি ভালো হাসপাতাল নির্মাণ এবং পর্যটন নগরী হিসেবে ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমি আশাবাদী যে, বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকলে এই কাজগুলো দ্রুতই শুরু হবে।
শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ❝অনেকেই বলছেন, সহসা বিদেশের শ্রমবাজার খুলবে না। যত যা-ই বলুক, আমি আপনাদের বলছি, দ্রুতই কিছু দেশের শ্রমবাজার খুলবে। বিপুল সংখ্যক লোক বিদেশে পাঠানোর সুযোগ আসছে।❞ এই সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণ-যুবকদের কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে বিমানবন্দর এলাকায় চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভিভিআইপি সেকশনের পাশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রবাস থেকে মরদেহ পরিবহনের জন্য একটি ফ্রিজার ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে একটি অ্যাম্বুলেন্সের অর্ডার দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের সম্মানার্থে ভিআইপি লাউঞ্জের ওপরে বাচ্চাসহ প্রায় ৪০ জনের বসার উপযোগী একটি পৃথক লাউঞ্জ নির্মাণাধীন রয়েছে, যা আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া একটি আধুনিক ওয়্যার হাউসের নির্মাণকাজও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশীয় ফলের ঐতিহ্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্বশুরবাড়ি থেকে আম-কাঁঠাল পাঠানোর যে ঐতিহ্য ছিল তা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ❝লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফলের চেয়ে আমাদের দেশীয় ফলের স্বাদ ও মান অনেক ভালো। এই ঐতিহ্যবাহী ফলগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে এবং বেশি করে ফলের গাছ লাগাতে হবে।❞ ফল উৎপাদন ও বিপণনে প্রফেশনাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানান তিনি।
ফল উৎসবের উদ্বোধন শেষে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ❝দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা রাষ্ট্র ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে, আর বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।❞ তিনি বলেন, সিলেটের উন্নয়ন, ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অপরিহার্য।
মৌসুমি ফলের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসজুড়ে বাংলার ঘরে ঘরে মৌসুমি ফলের সমারোহ আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।❞ প্রেসক্লাবের এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা, জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ ও তাপস দাশ পুরকায়স্থ, ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সদস্য লিয়াকত শাহ ফরিদী।
উপস্থিত ছিলেন,সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ মহসীন, ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সিনিয়র সদস্য মতিউল বারী চৌধুরী, ক্লাব সদস্য ও দৈনিক যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক মামুন হাসান, ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি ও দৈনিক আধুনিক কাগজের প্রকাশক সাঈদ চৌধুরী টিপু, দৈনিক যুগভেরীর বার্তা সম্পাদক ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু।
ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহ সাধারণ সম্পাদক রবি কিরণ সিংহ রাজেশ, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক জামিল আহমদ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ, নির্বাহী সদস্য নবীব সোহেল, রণজিৎ কুমার সিংহ, তুহিন আহমদ ও রাজীব আহমদ রাসেল।
ক্লাব সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক টিভির ও যায়যায়দিনের ব্যুরো প্রধান কাইয়ুম উল্লাস, প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক আনিস মাহমুদ, দৈনিক সমকালের স্টাফ ফটো সাংবাদিক ইউসুফ আলী, দৈনিক আজকের সিলেটের সম্পাদক ও শ্যামল সিলেটের সহকারি সম্পাদক রজত কান্তি চক্রবর্তী, দৈনিক আধুনিক কাগজের অনলাইন সম্পাদক এসএম রফিকুল ইসলাম সুজন, দৈনিক যুগভেরীর সিনিয়র রিপোর্টার এম এ মালেক, দৈনিক উত্তরপূর্বের প্রধান আলোকচিত্রী শংকর দাস ও ফটো সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, সিলেট ভিউ’র স্টাফ রিপোর্টার সুব্রত দাস, দৈনিক উত্তরপূর্বের সিনিয়র রিপোর্টার ওলিউর রহমান, মাইটিভির ক্যামেরা পার্সন শাহীন আহমদ, সিলেট ভিউটোয়েন্টিফোর.কম’র বার্তা সম্পাদক এনামুল কবীর, সিলেটভিউটোয়েন্টিফোর.কম এর নিজস্ব প্রতিবেদক রাশেদুল হোসেন সোয়েব, দৈনিক ইনকিলাব’র স্টাফ ফটো সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের প্রেসক্লাবের সাবেক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলার সিলেট ব্যুরো প্রধান মিঠু দাস জয়, দৈনিক খবরের কাগজের স্টাফ ফটো সাংবাদিক মামুন হোসেন, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র সিলেট প্রতিনিধি ভবরঞ্জন মৈত্র বাপ্পা, আধুনিক কাগজের চিফ রিপোর্টার জিকরুল ইসলাম, দৈনিক শ্যামল সিলেট’র স্টাফ রিপোর্টার সোহাগ আহমদ, দৈনিক উত্তরপূর্বের সাব এডিটর ফয়জুল আহমদ, চ্যানেল ২৪ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি আজহার উদ্দিন শিমুল, আজকের সিলেটের সহকারি সম্পাদক এসএম মিজানুর রহমান, নিউজ ২৪ টিভি’র সিলেট প্রতিনিধি নাজাত আহমদ পুরকায়স্থ, মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সাকিব আল মামুন, সিলেটভিউ’র স্টাফ ফটোসাংবাদিক মো. শহীদুল ইসলাম সবুজ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন মোজাম্মেল হক, একাত্তর টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন তারেক আহমদ, শ্যামল সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার রায়হান উদ্দিন, বার্তা২৪.কম এর সিলেট প্রতিনিধি মো. মোশাহিদ আলী, যুগভেরীর কম্পিউটার ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও দৈনিক শ্যামল সিলেটের কম্পিউটার ইনচার্জ মিলন তালুকদার প্রমুখ।
অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এসোনিক সিলেটের সাধারণ সম্পাদক জুরেজ আব্দুল্লাহ গুলজার, মন্ত্রীর একান্ত সহকারি সোহেল আহমদ, দৈনিক খবরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার শাকিলা ববি প্রমুখ।
রেলপথ, ব্রিজ, উন্নয়ন, যোগাযোগ অবকাঠামো, শ্রমবাজার, পর্যটন