টানা চতুর্থ দিনেও সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৯ জুন, ২০২৬ ৪:১১ অপরাহ্ন
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানবাক্স স্থাপন ও দানের ডেগ সিলগালার পর এবার হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে গেলেন সিলেটের ডেপুটি কমিশানর (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের আগে মাজার মসজিদে বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনা, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং মাদকের আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তিনি।
বক্তব্যে ডিসি মো. সারওয়ার আলম বলেন, ওলি-আউলিয়ারা এই মাটিতে শুয়ে আছেন। তাঁদের উসিলায় যেকোনো বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন এটা আমরা বিশ্বাস করি। তাই এসব মাজার ও মসজিদের উন্নয়নে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, মাজারকেন্দ্রিক একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা উচিত। সেখানে মেডিকেল সেন্টার থাকবে, নারীদের নামাজের সুব্যবস্থা থাকবে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।
দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ চায় তার দানের টাকায় ভালো কাজ হোক এবং সেই টাকায় স্বচ্ছতা থাকুক। কেউ যেন আত্মসাৎ করতে না পারে। তখনই মানুষ মন খুলে দান করবে। মাজারের আয়ের হিসাব স্বচ্ছ না থাকলে মানুষের আস্থা থাকবে না। দান করা অর্থ হাতে নয়, বাক্সে সংগ্রহ করতে হবে। মাজারের আয় থেকে সরকার এক পয়সাও নেবে না বলেও জানান তিনি।
মাজারে মদ-গাঁজার আসর বসার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই আসে। এটি একদিকে আইনত অপরাধ, অন্যদিকে পবিত্র স্থানে বসে অপরাধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখন থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। মাজারে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি দ্বিগুণ হবে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই স্বচ্ছতা ও সুন্দর পরিবেশ। তাহলেই ওলি-আউলিয়ারা যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন, সেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে। এখানে এলেই যেন মনে পবিত্রতা অনুভব হয় সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল চারটার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে নতুন দানবাক্স স্থাপন করে জেলা প্রশাসন। একই সময়ে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে এই পদক্ষেপে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাজারের একাংশ ভক্ত।
সিলেট, শাহপরান (রহ.) মাজার, ডিসি, সারওয়ার আলম