আট বছরেও শেষ হয়নি উন্নয়ন কাজ
নবীনগর–আশুগঞ্জ সড়কে কাজের ধীরগতির প্রভাব পড়ছে ঢাকা–সিলেট যোগাযোগে
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৪ জুন, ২০২৬ ৫:৫৮ অপরাহ্ন
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে হাওর অঞ্চলের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা (পোহাস)। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও চলতি বছরের ব্যাপক ফসলহানির প্রেক্ষাপটে হাওরবাসীর জন্য বিশেষ সুরক্ষা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: হাওরবাসীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটুর পরিচালনায় সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ আলম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা। তিনি হাওরবাসীর পক্ষ থেকে ২০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, চলতি বছরের ব্যাপক ফসলহানির কারণে হাওরের কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় বাজেটে হাওর অঞ্চলের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
এসময় তিনি জলবায়ু খাতে জিডিপির অন্তত ৩ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, হাওরে কৃষি বীমা চালু, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, বিল-নদী খননের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক ড্রায়ার ও কমিউনিটি মাড়াই কেন্দ্র নির্মাণ, বজ্রপাত মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি, মৎস্য গবেষণাগার ও অভয়াশ্রম স্থাপন, কৃষক ও জেলেদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি এবং হাওরাঞ্চলে পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়া অফিস স্থাপনের দাবি জানান।
প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. মাসুদ আলম বলেন, হাওরের ফসলহানি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জিডিপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণই হাওরের একমাত্র সমাধান নয় খাল খনন, জলাধার সৃষ্টি এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি প্রকৃত কৃষক ও জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির আহ্বান জানান এবং হাওর বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট শিরীন চৌধুরী বলেন, হাওরের বিশাল জনগোষ্ঠীর বিশেষ চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আগাম ও নির্ভুল আবহাওয়া সতর্কবার্তা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি হাওর অঞ্চলের নারীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান।
সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির বলেন, প্রতিবছর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এই দুর্নীতি বন্ধ না হলে হাওরবাসীর দুর্ভোগ কমবে না। তিনি নীতিনির্ধারকদের প্রতি হাওরের প্রান্তিক মানুষের বাস্তবতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
বিআইডিডির গবেষণা পরিচালক ড. শরীফ আহমদ চৌধুরী বলেন, হাওরের ফসল রক্ষায় আগাম জাতের ধানের চাষ সম্প্রসারণ করতে হবে। তিনি কৃষকদের উৎপাদিত ধান ব্যাপকভাবে সরকারি ক্রয় কর্মসূচির আওতায় আনা এবং হাওরে কৃষি বীমা চালুর দাবি জানান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মধ্যনগর উন্নয়ন পরিষদ সিলেটের সাবেক সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম এবং শিক্ষক লায়ন মো. মুস্তাফিজুর রহমান।
সিলেট, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা, হাওর