তাহিরপুরে হত্যা মামলায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১ জুন, ২০২৬ ৭:৪৭ অপরাহ্ন
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
তবে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিস্ফোরক মন্তব্যে মামলাটি নতুন মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত তৈরি হয়েছে।
আদালতে অভিযোগ গঠনের সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেকে ধর্ষণকারী নয় বরং ‘মরদেহ কাটার’ সহযোগী হিসেবে দাবি করেন। তিনি ‘ডলার’নামে নতুন এক ব্যক্তির নাম সামনে এনে দাবি করেন, ওই ব্যক্তিই শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে। সোহেল আদালত কক্ষের ভেতরে আইনজীবীদের সামনে দাবি করেন, ‘আমি ধর্ষণ করিনি, শুধু মরদেহ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন।’
এদিকে সোহেল রানার এমন মন্তব্যের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বললেও, তাৎক্ষণিকভাবে একে সন্দেহের চোখে দেখছেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জানান, সোহেল রানা আদালতের সহানুভূতি লাভের উদ্দেশে বা দায় এড়াতে এই বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারেন। তদন্ত চলাকালীন ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ‘ডলার’নামে কোনো ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেননি। তদন্ত প্রতিবেদনের কোথাও এমন কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি নতুন কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট আলামত পাওয়া যায়, তবে মামলাটি নতুন মোড় নিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে ডলার নামে কারো অস্তিত্ব বা সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সোহেল রানা এবং কাশিমপুর কারাগার থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আগামীকাল (২ জুন) থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে মিরপুর-১১ নম্বরের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে বাথরুমের বালতি থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাত্র পাঁচদিনের তদন্ত শেষে গত ২৪ মে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আদালত কক্ষ ত্যাগের সময়ও সোহেল রানাকে স্ত্রীকে সাহস দিতে দেখা যায়।
রামিসার মতো একটি শিশুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এখন আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর নির্দেশ দেওয়ায় দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন বাদীপক্ষ ও সচেতন নাগরিকরা।
রামিসা হত্যা মামলা, সোহেল রানা, পল্লবী হত্যাকাণ্ড, আদালতে অভিযোগ গঠন, শিশু হত্যা মামলা