১২ মে ২০২৬

খেলাধুলা-বিনোদন / খেলাধুলা

ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে উড়িয়ে টাইগারদের ইতিহাস

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ১২ মে, ২০২৬ ৫:৪৫ অপরাহ্ন

ছবিঃ ছবি: ক্রিকইনফো

মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শেষ বিকেলের আলো যখন ধীরে ধীরে ম্লান হচ্ছিল, তখন গ্যালারিতে একটাই স্লোগান—“নাহিদ…নাহিদ…”। হাজার দুয়েক দর্শকের কণ্ঠেও ছিল পাহাড়সম গর্জন। সেই উচ্ছ্বাসের মাঝেই বল হাতে আগুন ঝরালেন নাহিদ রানা। প্রতিটি ডেলিভারি যেন নতুন এক গল্প, প্রতিটি স্পেল যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা।


গতি, বাউন্স আর রিভার্স সুইংয়ের দারুণ মিশেলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে একের পর এক ধসিয়ে দেন তিনি। তার সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ দিনে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসে পড়ে। মাত্র ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ফলে ১০৪ রানের দাপুটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ, এবং সিরিজে এগিয়ে যায় টাইগাররা।


এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও ঘরের মাঠে এই জয় ইতিহাসের নতুন অধ্যায় যোগ করল।


প্রথম চার দিনের মধ্যে দুই দিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় শেষ দিনে ম্যাচে সময়ই ছিল বাংলাদেশের বড় প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করেছিল সকালে, তখন বাকি ছিল ৭৬ ওভার। কিন্তু বাস্তবে আলোর স্বল্পতায় খেলা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল আরও কম। সেই চাপের মধ্যেও দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ শেষ করে দেয় বাংলাদেশ, হাতে রেখে ২৩.১ ওভার।


নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই চাপে পড়ে। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরিয়ানদের প্রতিরোধ এবার কাজে আসেনি। অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফাজাল কিছুটা লড়াই করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। ফাজাল করেন ৬৬ রান, তবে তার বিদায়ের পরই পাকিস্তানের ইনিংস ভেঙে পড়ে। এরপর একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যান বোলাররা।


শেষ দিনে নাহিদ রানার স্পেলই হয়ে ওঠে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন এই তরুণ পেসার। তার আগুনে স্পেলে সহায়তা করেন তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। বিশেষ করে তাইজুলের ফ্লাইট ও টার্নে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার একের পর এক চাপে পড়ে।


এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ শুরু করে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ছিলেন বড় ইনিংসের পথে, কিন্তু ৮৭ রানে থেমে যান রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে। মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত ২৪ রানের ক্যামিও খেলেন, আর তাসকিনও শেষদিকে কিছু রান যোগ করেন। এরপরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ, লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮।


শেয়ার করুনঃ

খেলাধুলা-বিনোদন থেকে আরো পড়ুন

বাংলাদেশ ক্রিকেট, পাকিস্তান টেস্ট, নাহিদ রানা, মিরপুর টেস্ট, টাইগারদের জয়

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ