২১ এপ্রিল ২০২৬

মানবিকতা

বিশ্বনাথে ভবঘুরে উজ্জ্বলের মানবেতর জীবন

বদরুল ইসলাম মহসিন, বিশ্বনাথ, সিলেট

প্রকাশঃ ৩১ মার্চ, ২০২৬ ৫:৫৮ অপরাহ্ন


সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের অলিগলি আর পুরান ও নতুন বাজারে দীর্ঘ প্রায়  দুই যুগ ধরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন উজ্জ্বল রায় (৪০)। এক সময়ের হাসিখুশি মানুষটি আজ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তার ধুলোবালিতে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। সুচিকিৎসা আর দু বেলা খাবারের অভাবে বর্তমানে সে মৃত্যুর মুখোমুখি।

উজ্জ্বল রায় বিশ্বনাথ পুরানবাজারের বাসু রায় ও রীতা রায় দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান। তার পিতা ছিলেন একজন হাতুড়ে ডাক্তার। উজ্জ্বল রায়সহ তারা তিন ভাই ও দুই বোন। শৈশবটা তার অন্য দশজন শিশুর মতোই সুখের ছিল। কিন্তু বাবার অকাল মৃত্যু উজ্জ্বলের জীবনের সব সুখ কেড়ে নেয়।

বাবার মৃত্যুর পর চরম দারিদ্রের মুখে পড়ে পরিবারটি। তারপর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে উজ্জ্বল। একসময় পরিবারের সদস্যরাও তার আশা ছেড়ে দিলে তার ঠাঁই হয় রাস্তায়। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে বিশ্বনাথের বাজার আর গলিপথই তার ঠিকানা। পাগলের মতো আচরণের কারণে কেউ তার পাশে ভিড়তে চায় না। যেখানে রাত হয় সেখানেই সে ঘুমিয়ে পড়ে।

বর্তমানে উজ্জ্বল রায় এখন আর আগের মতো হাঁটতেও পারেন না। পঙ্গু অবস্থায় হাতে একটি লিভার স্টাইল হ্যান্ডেল নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ক্ষুধার জ্বালায় রাস্তা থেকে নোংরা খাবার তুলে খাচ্ছে। 
উজ্জ্বলের নিকট আত্মীয় অনিক দে বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ভাই-বোন, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যদি সাহার্য্যের হাত বাড়িয়ে দিলে এবং সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো উজ্জ্বল ফিরে পেতে পারে তার স্বাভাবিক জীবন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ভবঘুরের জন্য সমাজসেবা অফিস কর্তৃক আলাদা কোন প্রকল্প নেই। তাদের নিরাপত্তার জন্য ইউএনও ওসি ব্যবস্থা নিতে পারেন। কেউ তাকে (উজ্জ্বল) সরকারি হাসপাতারে ভর্তি করলে আমার সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিতে পারব।
 
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই যেহেতু বিষয়টি অবগত হয়েছি অতএব প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার (উজ্জ্বল) জন্য চিকিৎসার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


শেয়ার করুনঃ

মানবিকতা থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, বিশ্বনাথ, ভবঘুরে, উজ্জ্বল রায়

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ