বানিয়াচংয়ে মালিক ও শ্রমিকদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৯ আগস্ট, ২০২৬ ৮:২৩ অপরাহ্ন
সিলেটে আবারও শুরু হয়েছে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট। গত কয়েকদিন ধরে দিন ও রাত সমানতালে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় একঘণ্টা পরপর একঘণ্টা, আবার কোথাও টানা দুইঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন নগরবাসী। এতে গরমের মধ্যে দুর্ভোগ বেড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসের কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। অনলাইনে কাজ করা ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
নগরীর আম্বরখানার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মী হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অফিস সময়ের আটঘণ্টার মধ্যে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। একঘণ্টা থাকলে পরের ঘণ্টায় থাকে না। এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।’
বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জাহিদ আহমেদ বলেন, ‘গত রাতে ১২টার দিকে ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রায় একঘণ্টা পর আসে। এই সময়টাতে ছোট শিশুকে নিয়ে খুব কষ্ট করতে হয়েছে।’
একই এলাকার বাসিন্দা কয়েস আহমদ বলেন, ‘একঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। কখনো কখনো একঘণ্টা পরপর দুইঘণ্টা করেও বিদ্যুৎ থাকছে না। দিন ও রাত সমানতালে লোডশেডিংয়ের কারণে অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।’
খাসদবীর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফের অভিযোগ, ‘কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গভীর রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের যাচ্ছেতাই অবস্থার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।’
সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই সংকট নতুন নয়। গত একবছর ধরে বিভিন্ন সময়ে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় দিনে ও রাতে একাধিকবার লোডশেডিং করা হয়। অক্টোবরে এসেও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তি বাড়ে।
চলতি বছরের এপ্রিলেও সিলেটে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছিল। সে সময় চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ৩৫ শতাংশ ঘাটতি ছিল। ফলে প্রায় এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছিল। তখন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছিল, জ্বালানি সংকট, জাতীয় গ্রিড থেকে কম সরবরাহ এবং কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জুনেও সংকট অব্যাহত ছিল। ওই সময় সিলেট অঞ্চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৩২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৪৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ৮৪ মেগাওয়াট।
সর্বশেষ আগস্টেও সেই সংকট কাটেনি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বারবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, রোববার সিলেট বিভাগের পিডিবির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৩৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৭৭ মেগাওয়াট। ফলে বিভাগজুড়ে ৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল।
তিনি বলেন, ‘আগামী কয়দিন এ পরিস্থিতি চলমান থাকবে, তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কখন বাড়বে বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি বিদ্যুৎ বিভাগের এ কর্মকর্তা।
সিলেট, সিলেটে লোডশেডিং, সিলেটে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বিদ্যুৎ সংকট, সিলেট বিদ্যুৎ, সিলেট পিডিবি, জাতীয় গ্রিড, বিদ্যুৎ ঘাটতি, ৫৬ মেগাওয়াট ঘাটতি, সিলেট নগর, গরমে ভোগান্তি, লোডশেডিং