বানিয়াচংয়ে মালিক ও শ্রমিকদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রুট ও সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের জেরে গ্যানিংগঞ্জ বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডে গত দুই দিন ধরে সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে একদিকে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে গ্যানিংগঞ্জ বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডে মালিক ও শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, সামান্য কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ স্ট্যান্ডের লোকজন বিভিন্ন সময় গ্যানিংগঞ্জ বাজার স্ট্যান্ডের শ্রমিকদের সিরিয়াল বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শুধু শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরাও।
মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. সেলিম আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান সবুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, গ্যানিংগঞ্জ বাজার স্ট্যান্ডের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। কোনো একটি রুটে বিরোধ দেখা দিলে তার প্রভাব অন্য রুটের নিরীহ শ্রমিকদের ওপরও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এর ফলে একদিকে শ্রমিকদের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ।
বক্তারা জানান, কিছুদিন আগে আজমিরীগঞ্জ ও শিবপাশার সিএনজি শ্রমিকদের মধ্যে একটি বিরোধের সৃষ্টি হয়। বানিয়াচংয়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিবপাশার নেতৃবৃন্দ সেই সালিশে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ ওঠে। পরে হবিগঞ্জ স্ট্যান্ডের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে বানিয়াচংয়ের শ্রমিকদের সিরিয়াল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শ্রমিক নেতারা জানান, এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন রুটে সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দূরদূরান্তের যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক মানুষ ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে জানান স্থানীয়রা।
শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য, সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় চার শতাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব শ্রমিকের পরিবারে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকলে তা আলোচনার টেবিলে বসে সমাধান করা উচিত। এক পক্ষের বিরোধের শাস্তি অন্য পক্ষের শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
এ সময় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে শ্রমিক নেতারা বলেন, বিরোধের স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান না হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। তাই কোনো পক্ষের প্রতি বৈষম্য না করে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের দ্রুত অবসান ঘটানো জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন আবু সুফিয়ান, মো. নাজমুল হোসেন, কবির আহমদ, আবদুল কাইয়ুম, ছোটন আহমেদ, কালাশাহ, আবু মিয়া, সবুজ মিয়া ও জিতু মিয়াসহ মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
সিএনজি অটোরিকশা, শ্রমিক ধর্মঘট, যাত্রী দুর্ভোগ, বানিয়াচং, পরিবহন ধর্মঘট, গণিংগঞ্জ বাজার