৩১ মার্চ ২০২৬

অভিবাসন

ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানি

মামলার প্রস্তুতি পুলিশের, এলাকায় নেই চিহ্নিত দালালরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৩০ মার্চ, ২০২৬ ৭:৪০ অপরাহ্ন


লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অনাহারে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। এছাড়াও মানবপাচারসংক্রান্ত পুরাতন মামলাগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, অভিবাসনপ্রত্যাশী ১২ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় গা ঢাকা দিয়েছেন মানবপাচারকারীদের দেশে থাকা দালালরা। ইউরোপের দেশে পাঠানোর জন্য চুক্তিসম্পাদন করা দালালদের নাম্বারে কল দিলেও কেউ এখন আর কল ধরছেন না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। বাড়িতে গিয়েও তাদের সন্ধান মিলছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার নুরুজ্জামান সরদার ময়নার ১২ লক্ষ টাকায় গ্রিস যাওয়ার চুক্তি ছিল লিবিয়া প্রবাসী হবিগঞ্জ জেলার জসীম নামের এক মানবপাচারকারির সঙ্গে।

ভাসমান নৌকা থেকে উদ্ধার হওয়া কাদির নামের এক তরুণ একটি ভিডিওতে জানিয়েছেন যে লিবিয়া থেকে ‘গেম’ এর ব্যবস্থা করে দেয় এই জসীম। চুক্তি অনুযায়ী বড় নৌকা না দিয়ে ছোট নৌকায় জিপিএস-ম্যাপ ছাড়া ভাসিয়ে দেওয়া হয়। হতাহতের ঘটনায় জসীমের কঠোর শাস্তি দাবি করেন উদ্ধার হওয়া তরুণ।

শুধু জসীম নয়, নিহত তরুণদের পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মুজিবুর রহমান এবং জগদল গ্রামের সালেহ আহমদ নামের দুই স্থানীয় দালালের কথা। এছাড়াও ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাও গ্রামের আজিজ, ঘোষগাঁও গ্রামের শাহীন, রিপন, আলমাস ও জাহাঙ্গীর নামের দালালদের কথা।

কিন্তু দেশে থাকা সকল দালালই এখন পলাতক। প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার তাদের সাথে চুক্তি হওয়া দালালদের নাম্বারে কল দিলেও কেউই এখন আর কল ধরছেন না।

দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক চেয়ারম্যান ও মেম্বার জানিয়েছেন, এসকল এলাকার অনেক যুবক-তরুণ ইউরোপের পথে লিবিয়া আটকে আছেন। কিন্তু ছেলেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এসকল পরিবারের সদস্যরা এ ব্যাপারে কারো সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন না।

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, ‘নিহতদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। শুধুমাত্র তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত করছেন। তাদের সাথে কথা বলে মানবপাচারের সাথে জড়িতদের নাম ও পরিচয় নেয়া হয়েছে। তাদেরকে ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় এ সকল পাচারকারিদের বিরুদ্ধে দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে পরিবার যদি সার্বিক দিক বিবেচনায় মামলা দিতে অপারগতা দেখান, তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে। এছাড়াও মানবপাচারসংক্রান্ত পুরাতন মামলাগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’


শেয়ার করুনঃ

অভিবাসন থেকে আরো পড়ুন

লিবিয়া, সাগরপথে ইউরোপ, সুনামগঞ্জ, দিরাই উপজেলা, গেইমঘর, লিবিয়া গেইম, দালাল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ