স্বচ্ছলতার স্বপ্নে ইউরোপে পাড়ি, সাগরে ডুবে গেল তরুণ ফাহিমের জীবন
অভিবাসন
প্রকাশঃ ২৯ মার্চ, ২০২৬ ৬:৩০ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা, দিরাই উপজেলা ও দোয়ারাবাজার উপজেলা—এই তিন উপজেলায় এখন শোকের ছায়া। ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক নৌকাডুবিতে জেলার অন্তত ১১ জন তরুণ প্রাণ হারানো ও ২ জন নিখোঁজের ঘটনায় প্রতিটি গ্রামেই চলছে আহাজারি। কোনো ঘরেই থামছে না কান্না, নিভে গেছে ১৩টি পরিবারের স্বপ্ন।
স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার পরিবেশ। কেউ হারিয়েছেন সন্তানের মতো আদরের ছেলেকে, কেউ ভাইকে, আবার কেউ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। পরিবারের প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।
জানা গেছে, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে লিবিয়া হয়ে গ্রিসগামী একটি নৌকায় যাত্রা করেছিলেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রাই শেষ হয় ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে। গ্রিস উপকূলে এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়, যার মধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার একাধিক তরুণ রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে প্রতিনিয়তই এই অঞ্চলের তরুণরা অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন। পরিবারগুলো জমি বিক্রি, ঋণ ও ধার করে লাখ লাখ টাকা জোগাড় করে সন্তানদের বিদেশ পাঠান। কিন্তু অনেকেরই সেই স্বপ্ন শেষ হয় সাগরের গভীরে।
নিহতদের মধ্যে দোয়ারাবাজার উপজেলার আবু ফাহিম রয়েছেন। এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার নিহতরা হলেন, আমিনুল রহমান, ইজাজুল হক, নাঈম আহমেদ, শায়েখ আহমেদ ও আলী আহমেদ। তাছাড়া দিরাই উপজেলার নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাজিদুর রহমান, নুরুজ্জামান সর্দার ময়না, মেহেদী হাসান তায়েফ, সোহানুর রহমান ও মুজিবুর রহমান।
অন্যদিকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দিরাই উপজেলার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মো. সাহানুর।
নিহত নাঈম মিয়ার বাবা দুলন মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে বিদেশে গিয়ে ভালো কিছু করবে এই আশাতেই ঘর ছাড়ছিল। কিন্তু আজ সে আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছে। আমি আমার ছেলের লাশটাও দেখতে পারতেছি না।
শায়ক মিয়ার চাচাতো ভাই সালাম মিয়া বলেন, দালালদের কথায় বিশ্বাস করে লাখ লাখ টাকা দিছি। ভেবেছিলাম বিদেশে গিয়ে ওর জীবন বদলাইবো। কিন্তু আজ সব শেষ। তার লাশ কই আছে, কিছুই জানি না এই চিন্তায় মাথা কাজ করে না।
সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার জানান, জেলার তিন উপজেলার একাধিক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেছেন, ‘আমরা স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারছি। কিন্তু তারা যেহেতু বৈধপথে কোন এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছিলেন না, তাই তাদের বিষয়ে সরকারি কোন তথ্য নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি যেন ভুক্তভোগী পরিবারদের খুঁজে বের করে এ সম্পর্কিত সকল তথ্য নথিভুক্ত করেন। এর ফলে যারা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অবৈধপথে পাচার করছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যায়।’
সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দিরাই, দোয়ারাবাজার, ভূমধ্যসাগর, নৌকাডুবি, লিবিয়া, গেইম