২৭ মার্চ ২০২৬

সংগ্রাম-স্বাধীনতা / মুক্তিযুদ্ধ

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, বিভীষিকাময় গণহত্যার রাত

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ২৫ মার্চ, ২০২৬ ১:০৭ পূর্বাহ্ন


আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। সভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই রাতে, অর্থাৎ ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে, স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর নেমে আসে ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র, নিরপরাধ মানুষের ওপর চালায় পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ।

২০১৭ সাল থেকে জাতীয়ভাবে দিনটি গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান–এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর এড়াতে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু।

আন্দোলনের ২৪তম দিনে, ২৫ মার্চ গভীর রাতে, ঢাকাসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান ও ভারী অস্ত্র নিয়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশ, ইপিআর সদস্য ও অসংখ্য নিরীহ মানুষ এই গণহত্যার শিকার হন।

রাষ্ট্রপতির বাণী : 


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাণীতে বলেন, ‘২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যায় পুরো জাতি বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং এর অব্যবহিত পর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা-বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসীম সাহসী করে তোলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে। শুরু হয়ে যায় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস পর লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর বর্বরতা, অন্যদিকে জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবগাথা ও বীরত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। হতে হবে অনুপ্রাণিত।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী :


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনো ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি। তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি।’ একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত-সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


শেয়ার করুনঃ

সংগ্রাম-স্বাধীনতা থেকে আরো পড়ুন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ