- ২৫ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কালো রাত। পূর্বপরিকল্পিত অভিযানে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী রাত একটায় ঘড়ির কাঁটা বাজতেই তাণ্ডব শুরু করে এবং এই রাত মানব ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যাগুলোর একটিতে পরিণত হয়। এই রাতে স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত নিরীহ বাঙালিদের ওপর সামরিক বাহিনী লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। সামরিক পরিভাষায় এ অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত।
- সেই সন্ধ্যাতেই ইয়াহিয়া খান নীরবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই; ঢাকার ভারী বাতাসে ভেসে থাকে তার রেখে যাওয়া হত্যাযজ্ঞের নির্দেশ।
- রাত ১টায় ২২তম বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা নির্দেশ পেয়ে পিলখানায় ইপিআর সদর দপ্তরে আক্রমণ চালায়। সেখানে মাত্র ১৮ জন বাঙালি গার্ড থাকলেও তারা এ নির্মমতার সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন।
- পিলখানায় হামলার পরপরই সমগ্র ঢাকা—রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাঁখারীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ আক্রমণ শুরু হয়। সারারাত ধরে চলা এই হত্যাযজ্ঞে অসংখ্য মানুষ নিহত হয়, বহু নারী ধর্ষণের শিকার হন, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং লুটপাট চালানো হয়।
- ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সবাইকে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
- এর আগে প্রেসিডেন্ট ভবনে ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে পাকিস্তান পিপলস পার্টির উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- ইয়াহিয়া খানের বাংলাদেশ ত্যাগের খবর বঙ্গবন্ধুর কাছে দ্রুত পৌঁছে যায়। তিনি আওয়ামী লীগের অনেক নেতার উপস্থিতিতে বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া কেবল সামরিক শাসন জারি রাখার দিকেই জোর দিয়েছেন।
- রাত ১টার দিকে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি দল শুকরাবাদে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের নিকট একটি ব্যারিকেডের মুখোমুখি হয়। বাধা ভেঙে তারা তার বাড়িতে পৌঁছে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং শেষ পর্যন্ত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তাকে আটক করে শের-ই-বাংলা সামরিক দপ্তরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে ক্যান্টনমেন্টে হস্তান্তর করা হয়।
তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর