২৫ মে ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা / প্রযুক্তি

প্রযুক্তির পর্দায় প্রবাসী নির্ভর সিলেটিদের ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২১ মার্চ, ২০২৬ ৭:২০ অপরাহ্ন

ছবিঃ এআই

ঈদ মানেই একসঙ্গে নামাজ, কোলাকুলি আর ঘরে ফেরা প্রিয়জনের হাসিমুখ। কিন্তু প্রবাসী নির্ভর সিলেট অঞ্চলে এই চিরচেনা আনন্দের ভেতর মিশে থাকে নীরব এক শূন্যতা। হাজারো পরিবারের ছেলে-মেয়েরা দেশের বাইরে থাকায় ঈদের দিনেও বাড়ির উঠোনে তাঁদের পদচারণা শোনা যায় না। তবুও থেমে থাকে না উৎসব ডিজিটাল পর্দায় ভেসে ওঠা মুখগুলোই হয়ে ওঠে ভালোবাসার একমাত্র সান্ত্বনা।

ঈদের সকাল। ফজরের নামাজের পর ঘরে ঘরে প্রস্তুতি, রান্নাঘরে ব্যস্ততা। কিন্তু অনেক ঘরেই একটা চেয়ার খালি পড়ে থাকে যেখানে বসার কথা ছিল দূরে থাকা সন্তানের। এই শূন্যতার মাঝেই মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে হঠাৎ ভেসে ওঠে প্রিয় মুখ। শুরু হয় ভিডিও কল কিছুক্ষণেই কান্না, হাসি আর স্মৃতির মিশেলে ভরে ওঠে পরিবেশ।

নগরের রায়নগর এলাকার বাসিন্দা আয়েশা বেগম বলেন, ছেলে পর্তুগালে থাকে। ছোটবেলায় ঈদের দিন সকালে নতুন জামা পরে আমার পাশে বসে থাকত। এখন ভিডিও কলে দেখি, কিন্তু মনে হয় ঘরটা ফাঁকা। ছেলের ছুটি না থাকায় এবার সে আসতে পারেনি তবুও সে বাংলাদেশের সময় মেনেই আমাকে ফোন দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে।  

একই অনুভূতির কথা জানালেন দর্জিপাড়ার আবদুল মালিক। তাঁর বড় ছেলে যুক্তরাজ্যে। তিনি বলেন, ঈদের নামাজ থেকে ফিরে এসে ঘরে এসে কিছুটা খারাপ লাগে, ছেলেগুলো থাকলে অনেক আন্দর করতো। সে না আসলেও ফোনে কথা বলেই মনটা ভরাতে হয়।

শুধু বাবা-মাই নন, প্রবাসে থাকা সন্তানেরাও বয়ে বেড়ান একই আবেগ। লন্ডনে থাকা সিলেটি তরুণ তানভীর আহমদ বলেন, ঈদের দিনটা এখানে একদম অন্যরকম। কাজের ফাঁকে ভিডিও কলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলি। তখন মনে হয়, আমি যেন ঘরের ভেতরেই আছি, কিন্তু ছুঁতে পারি না।

গ্রামাঞ্চলেও এখন একই চিত্র। ঈদের দিন নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সবাই একত্র হয়ে ফোনের সামনে বসেন। কেউ কেউ প্রবাসী সদস্যদের জন্য আলাদা করে খাবার সাজিয়ে রেখে ভিডিও কলে দেখান যেন দূরত্ব সত্ত্বেও একই টেবিলে বসে আছেন সবাই।

নগরীর আম্বরখানা এলাকার রহিমা খাতুন বলেন, ছেলে যখন ছোট ছিল, ঈদের সকালে তাকে নিয়ে সেমাই খাওয়াতাম। এখন ভিডিও কলে দেখাই সে ওখানে বসে খায়, আমরা এখানে। মনে হয় একই ঘরে আছি, কিন্তু আসলে কেউ কারও পাশে নেই।


শেয়ার করুনঃ

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, ঈদ, প্রবাসী, প্রযুক্তি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ