০৩ মে ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

হাওরে বিকল প্রায় ৪০০ ধান কাটার মেশিন, বোরো মৌসুম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১২ মার্চ, ২০২৬ ৪:০৪ অপরাহ্ন


বোরো ধান কাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসায় কৃষিযন্ত্র বিকল হয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা। সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৪০০টি ধান কাটার মেশিন অচল হয়ে পড়ায় সময়মতো ধান কর্তন নিয়ে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচির আওতায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মধ্যে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিন সরবরাহ করা হয়। আধুনিক এসব কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ফলে স্বল্প সময়ে ধান কাটা সম্ভব হওয়ায় হাওরাঞ্চলের কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তবে দুই থেকে তিন মৌসুম ব্যবহারের পর অনেক মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রয়োজনীয় মেরামতসেবার অভাবে অনেক যন্ত্র এখন অচল হয়ে পড়েছে।

হাওরপাড়ের কৃষকেরা বলছেন, সময়মতো বিকল মেশিনগুলো সচল করা না গেলে ধান কাটার সময় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাহিরপুর উপজেলার কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘হাওরে সময়মতো ধান কাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মেশিন বিকল থাকলে শ্রমিক দিয়েও এত বড় জমির ধান দ্রুত কাটা সম্ভব হয় না। এতে ঝড়–বৃষ্টি এলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।’

দিরাই উপজেলার কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় অনেক মেশিন নষ্ট হয়ে আছে। মেরামত করার লোকও সহজে পাওয়া যায় না। সরকার যদি দ্রুত এগুলো মেরামতের ব্যবস্থা না করে, তাহলে ধান কাটার সময় কৃষকরা বিপদে পড়বেন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ভর্তুকি মূল্যে জেলার কৃষকদের মধ্যে সহস্রাধিক ধান কাটার মেশিন সরবরাহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ৮৭৬টি কম্বাইন হারভেস্টার। বর্তমানে এর মধ্যে সচল রয়েছে ৫৭০টি এবং ৩০৬টি বিভিন্ন কারণে অচল হয়ে গেছে। অচল মেশিনগুলোর মধ্যে ১৩০টি মেরামতযোগ্য এবং ১৭৬টি সম্পূর্ণ মেরামতের অযোগ্য।

অন্যদিকে জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ২১৯টি রিপার মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে সচল রয়েছে ১৪৬টি, মেরামতযোগ্য ৪৫টি এবং ২৮টি মেশিন সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, যেসব মেশিন মেরামতযোগ্য সেগুলো দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে। এবার ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, ধান কাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসায় কৃষিযন্ত্রগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনেক পুরোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। যেসব মেশিন মেরামতযোগ্য, সেগুলো দ্রুত সচল করার চেষ্টা চলছে। যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে এর প্রভাব কতটা হবে তা সময়ই বলে দেবে।


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

হাওর, ধান, মেশিন, বোরো ধান, কৃষক, সুনামগঞ্জ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ