জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
তালাবদ্ধ বাহিরের একমাত্র শৌচাগার, দুর্ভোগে হাসপাতালের রোগীরা
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ২ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধনের পর অল্প কিছুদিন ব্যবহার হলেও এখন তালাবদ্ধ রয়েছে একমাত্র বাহিরের শৌচাগারটি। এতে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভেতরের শৌচাগারগুলোর নোংরা পরিবেশ, ভাঙাচোরা দরজা ও পানির তীব্র সংকট পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের বাহিরে নির্মিত শৌচাগারটিতে তালা ঝুলছে। ভেতরের অধিকাংশ টয়লেট ব্যবহার–অনুপযোগী। কয়েকটির দরজা ভাঙা, অনেকগুলোর লক নষ্ট। ফলে অনেক ক্ষেত্রে একজনকে দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে আরেকজনকে ভেতরে টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। পানির অভাবে ব্যবহারের পর পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারগুলোর অবস্থাও বেহাল। এমনকি ভিআইপি কেবিনের বাথরুমও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থা বিরাজ করায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সেবা নিতে আসা সুমন মিয়া ও নুরুল হক বলেন, ‘উদ্বোধনের পর কয়েকদিন বাহিরের শৌচাগার খোলা ছিল। এরপর থেকে বন্ধ। ভেতরের টয়লেট ব্যবহার করা মানে মানসিক কষ্ট ভোগ করতে যাওয়া। পানি থাকে না, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেই। দরজা ঠিক না থাকায় গোপনীয়তাও রক্ষা করা যায় না।’
হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ‘রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। এক পাশ পরিষ্কার করতে করতেই অন্য পাশ নোংরা হয়ে যায়। একা এত বড় হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজন মনে হলে বাহিরের শৌচাগার গুলো খুলে দেওয়া হয়। যেসময় এই হাসপাতালের কর্মকর্তারা মনে করেন খোলা প্রয়োজন, তখন তারা তালা দেওয়া শৌচাগারগুলো খুলে দেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী কম থাকাও একটা বড় সমস্যা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, ‘বাহিরের শৌচাগার গুলো প্রয়োজন হলে খুলে দেওয়া হয়। বেশি খোলা থাকলে এগুলো নষ্ট করে ফেলবে। যদি কোন সময় চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যেসময় খোলা রাখতে হবে বলে আমরা মনে করি, সে সময় খোলা রাখবো। ভিতরের বিষয়টা আমরা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করি, কিন্তু জনবল-সংকটের কারণে সব জায়গা একসঙ্গে পরিষ্কার রাখা সম্ভব হয় না। তারপরও চেষ্টায় আছি এ সমস্যা গুলো সমাধান করার।’
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য সমস্যা, দুর্ভোগ, সুনামগঞ্জ