০১ মে ২০২৬

সংগ্রাম-স্বাধীনতা / মুক্তিযুদ্ধ

কমিটি নেই-কার্যক্রমও নেই, নিষ্প্রাণ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৬ মে, ২০২৫ ৯:১৯ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠা আধুনিক তিনতলা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনগুলো এখন কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের `প্রাণকেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিত এসব ভবনে নেই তেমন কোনো কার্যক্রম। 

বীরমুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যকর কমিটি না থাকায় সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে।

জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জেলার ১১টি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করে। এতে ব্যয় হয় প্রায় ২২ কোটি টাকা। প্রতিটি ভবনের জন্য গড়ে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশাসহ বিভিন্ন উপজেলার কমপ্লেক্স ভবনগুলো বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকে। কোথাও দরজা-জানালা ভাঙা, আবার কোথাও ভবনের রুমগুলো বছরের পর বছর অব্যবহৃত। অনেক ভবনে বহিরাগতরা জিনিসপত্র রেখে দখল করে রেখেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ভবনগুলো উপজেলা সদর বা বাজার থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় সেগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে কক্ষ ভাড়ার আগ্রহও কম। যে কয়টি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও চলছে কোনোমতে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এসব কমপ্লেক্স ভবনের অনেকটাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের অনানুষ্ঠানিক কার্যালয়ে রূপ নিয়েছিল। ফলে মুক্তিযোদ্ধারা নিজস্ব ভবনে বসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

২০২৩ সালের ১৩ মে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাজু আহমদ বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত এসব ভবনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। ভবন ভাড়া দিলে তা থেকে আয়ের একটি উৎসও হতে পারে।’

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মফিজুর রহমান জানান, ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভবনটি সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্যই। এই ভবনের দরজা তাদের জন্য সবসময় খোলা। ভবন ব্যবহারে তাদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভবনের কক্ষগুলো ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার হাজী নূরুল মোমেন বলেন, ‘২০১৭ সালে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে জেলার সব মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। প্রতিশ্রুতি মিলছে কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।’


শেয়ার করুনঃ

সংগ্রাম-স্বাধীনতা থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, মুক্তিযোদ্ধা ভবন অচল, সুনামগঞ্জ খবর, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ