০৪ মার্চ ২০২৬

দৈনন্দিন / আন্দোলন-বিক্ষোভ

বেতন ছাড়া ১৪ সপ্তাহ: ঈদের আগে বিক্ষোভে চা শ্রমিকরা

সিলেটের বুরজান চা-কোম্পানির তিনটি বাগানের শ্রমিকদের ১৪ সপ্তাহের বকেয়া ও রেশন বাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৪ মার্চ, ২০২৫ ৯:০৯ অপরাহ্ন

ছবিঃ বকেয়া বেতনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে চা-শ্রমিকদের অবস্থান। ছবি কৃতজ্ঞতা: বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন।

সিলেটের বুরজান চা-কোম্পানির তিনটি বাগানের শ্রমিকরা ১৪ সপ্তাহের বকেয়া বেতন ও রেশনের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন। ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় তারা চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

জ্যোৎসা বেগম, যিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন, বলেন, “রোজার সময় বেতন বন্ধ থাকায় ঠিকমতো ইফতারি খেতে পারছি না। কচু শাক খেয়ে দিন পার করছি, এখন সেটাও আগের মতো পাচ্ছি না।”

তিনি আরও বলেন, “সামনে ঈদ। বেতন না পেলে বাচ্চাদের নতুন কাপড় কিনে দিতে পারব না। ঈদের পর বেতন-বোনাস দিয়ে কী হবে? তখন তো আর নতুন কাপড় কেনা সম্ভব হবে না। আমাদের কষ্টের কথা কেউ বোঝে না।”

কালাগুল চা বাগানের শ্রমিক শিলা নায়েক বলেন, “আমরা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করি, অথচ ১৪ সপ্তাহ ধরে বেতন পাচ্ছি না, রেশনও বন্ধ। প্রতিদিনই মালিকপক্ষ আশ্বাস দেয়, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয় না। আমরা আর কতদিন এভাবে চলব?”

একই অভিযোগ করেন শ্রমিক আয়না নাহার। তিনি বলেন, “আমাদের একটু সাহায্য করুন, যাতে আমরা বকেয়া বেতন-বোনাস পাই এবং আগের মতো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারি। কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।”

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু গোয়ালা বলেন, “আজ আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছেন। শ্রমিকদের দুর্দশা আমরা তুলে ধরেছি।”

বুরজান কারখানা শ্রমিকদের পঞ্চায়েত সভাপতি বিলাশ বুনাজী বলেন, “জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে বাগান সচল রাখতে এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা চালু রাখতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি ঈদের পরও সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে সিলেটের ২২টি চা বাগানের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

বুরজান চা-বাগান কোম্পানির ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “যেসব চা বাগানে সমস্যা রয়েছে, সেসব বাগানের প্রতিনিধিদের নিয়ে চা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বৈঠক করেছে। চা বোর্ড কর্তৃপক্ষ কৃষি ব্যাংকের কাছে আমাদের জন্য ঋণের সুপারিশ করবে। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।”

তিনি আরও জানান, চা পাতার দাম না বাড়ায় বাগান লোকসানে চলছে। শুধু শ্রমিকদের বেতনই নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও বন্ধ রয়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালে দুপুর ২টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার উজ জামান শ্রমিকদের সামনে এসে জানান, বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের জন্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “ঈদের পর শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও রেশনের সমস্যা সমাধান হবে। আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।”


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, চা শ্রমিক, বুরজান চা বাগান, বেতন, বিক্ষোভ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ