ধান পচে গন্ধ, হাওরে ডুবছে স্বপ্ন: চরম দুশ্চিন্তায় জগন্নাথপুরের কৃষক
কৃষি
প্রকাশঃ ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ ৯:২২ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে বৃহৎ হাওর হিসেবে পরিচিত নলুয়ার হাওর। হাওরটিতে দেড় মাস আগে শুরু হয় ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ। তবে এ সময়ের মধ্যে হাওরের ৮ নম্বর প্রকল্পের কোথাও মাটি ভরাটের কাজ হয়নি। তবে অন্যান্য প্রকল্পে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হলে সন্তুসজনক নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে নলুয়া হাওরের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, নলুয়ার হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের ৬ নম্বর থেকে ৯ নম্বর প্রকল্প পর্যন্ত এই চারটি প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার অংশের বেড়িবাঁধের মধ্যে মাত্র দেড় কিলোমিটার অংশের কিছু কিছু এলাকায় মাটি পড়েছে। তিন কিলোমিটার অংশে অরক্ষিত, কোন মাটি পড়েনি। তবে হাওরের ৩, ৪, ৫, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর প্রকল্পে কাজ চলমান আছে। এরমধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পে ধীরগতিতে কাজ চলমান রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এদিকে দেড় মাসে অনেক প্রকল্পের দায়িত্বশীলরা কাজ শুরু করতে পারেননি। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ অবস্থায় যথাসময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, হাওরের ৮ নম্বর প্রকল্পের হালেয়া নামক স্থান থেকে শালিকা এলাকা পর্যন্ত ১ দশমিক ১৫০ কিলোমিটার কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৯ লাখ ৬৩ হাজার ২০০ টাকা। দেড় মাস পাড় হলেও এখন পর্যন্ত বেড়িবাঁধে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়নি। শুধু তাই নয়, প্রকল্প পরির্দশনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কোন সদস্যকেও বাঁধ এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়নি। ছিল না কাজের বিবরণীর কোন সাইনবোর্ডও। তবে ফাঁকা বাঁধে একটি এস্কেবেটরকে (মাটি কাটার যন্ত্র) পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে ফসলরক্ষা বাঁধের ৮ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি সভাপতি বাহার মিয়া জানান, তিনি অসুস্থ থেকে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দুই-এক দিনের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করবেন।
এদিকে হাওরের ৯ নম্বর প্রকল্পে বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের সভাপতি রুবেল মিয়া জানান, তার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে। এক কিলোমিটার এই প্রকল্প কাজের জন্য ২৯ লাখ ৩ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
৭ নম্বর প্রকল্পের মাছুখালি থেকে হালেয়ার মুখ পর্যন্ত এক কিলোমিটারের মধ্যে ৪০০ ফুট এলাকায় মাটি পড়লেও ৬০০ ফুট অংশে মাটি পড়েনি। তবে কাজ চলমান। বাঁধের কাজে সম্পৃক্ত প্রকল্প কমিটির সদস্য গৌতম দাশ জানান, প্রকল্পে ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কাজ চলছে, সময়মতো কাজ শেষ হবে।
হাওরে কথা হয় কৃষক আলমগীর হোসনের সঙ্গে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় আমরা চিন্তিত। আমরা সবসময় অকাল বন্যার ঝুঁকিতে থাকি। তাই সময়মতো কাজ শেষ না হলে ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা শামীম আহমেদ জানান, এবার বিভিন্ন প্রকল্পে অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরপরও যদি সঠিকভাবে কাজ না হয়- কৃষকের ফসল নিয়ে ছিনিমিনি করা হয় তা মেনে নেয়া হবে না। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও উপজেলা তদারক কমিটি কেউ দায়ভার এড়াতে পারবেন না। প্রয়োজনে গণআন্দোলন গড়ে তুলব।
জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ বললেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ৩৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দে ১৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। আমরা কাজ তদারকি করছি এবং সবাইকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে বলেছি।
ফসলরক্ষা বাঁধ, প্রকল্প, বেড়িবাঁধ প্রকল্প, জগন্নাথপুর