১৬ এপ্রিল ২০২৬

অপরাধ-বিচার / বিচার

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

দুদকের মামলায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নঈমুল হক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ১:১৯ অপরাহ্ন

ছবিঃ নঈমুল হক চৌধুরী

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নঈমুল হক চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুনশী আব্দুল মজিদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর শফিউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নাকচ করেন।

সিলেট দুদকের উপ-সহকারী পরিদর্শক বশির আহমেদ বলেন,  ‘তিনি মামলার দুই নাম্বার আসামি, আজ তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।’

নঈমুল হক চৌধুরী সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা লগ্নে পরিচালক (অর্থ) ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নঈমুল হক চৌধুরী দুদকের মামলায় চার্জশীটভূক্ত ২ নম্বর আসামী। ওই মামলার প্রধান আসামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী এখনও পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত রোববার দুর্নীতির মামলায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরও আগে আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা দুর্নীতির মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুদকের মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে ইউজিসি ২০২৩ সালে তদন্ত করে। তদন্তে তৎকালীন উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া যায়। পরে দুদকের সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয় নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল মামলা করে। ওই বছরের ২৫ এপ্রিল ৫৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে সিন্ডিকেট ও ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২২০ জনকে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে (অ্যাডহক) ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে মেয়াদ অনূর্ধ্ব ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার পর চাকরি নিয়মিত না করে আবার অ্যাডহকে দুই থেকে পাঁচবার পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

দুদক, মামলা, সাবেক ভারপ্রাপ্ত, রেজিস্ট্রার, নঈমুল হক, কারাগার,সিলেট, মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ